• বরুণ খুনের তদন্ত দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ পরিবার
    বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বনগাঁ: নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিক পুরনো মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বরুণ বিশ্বাস খুনের তদন্তের আর্জি জানালেন পরিবারের সদস্যরা। বনগাঁ পুলিশ সুপার ও জিআরপির কাছেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ১৪ বছর আগে গাইঘাটার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে গুলি করে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা। প্রথম থেকেই বরুণের পরিবার অভিযোগ করে আসছে যে, এই খুনের ঘটনায় জড়িত প্রাক্তন এক মন্ত্রী। মৃত শিক্ষকের পরিবারের দাবি, বরুণ খুনে যাঁরা যুক্ত তাঁরা দীর্ঘদিন আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন। এবার খুনের তদন্ত শুরু হোক। ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশন চত্ত্বরে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হন কলকাতা মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। এই ঘটনায় পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় জেলেই। বর্তমানে অভিযুক্তরা জামিন মুক্ত। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই দাবি করে আসা হয়েছে, এই খুনের ঘটনায় প্রাক্তন এক মন্ত্রী যুক্ত। এদিনও একই অভিযোগ জানিয়েছে পরিবার। আশির দশকের শেষ দিকে গাইঘাটার সুঁটিয়া দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিল। একের পর এক খুন, ধর্ষণ, লাগামছাড়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন বাসিন্দারা। তৈরি হয়েছিল সুঁটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চ। এই মঞ্চের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন বরুণ। তার ফলেই ওই প্রতিবাদী শিক্ষককে খুন হতে হয়েছিল। বরুণ খুনের তদন্তের ঘটনায় প্রতিবাদী মঞ্চের ভূমিকাকেও প্রশ্নের মুখে রেখেছে পরিবার। পরিবারের দাবি, প্রাক্তন ওই মন্ত্রীকে বাঁচাতে চাইছে প্রতিবাদী মঞ্চ। ওই মন্ত্রীকে খুশি করতেই বাড়ির সামনে বরুণের বিকৃত মূর্তি বসানো হয়েছে বলে দাবি দাদা অসিত বিশ্বাসের। তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে কথা বলার সুযোগ ছিল না। এই সরকার সেই সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ওই খুনের তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে। এবিষয়ে প্রতিবাদী মঞ্চের সভাপতি ননীগোপাল পোদ্দার বলেন, কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়নি কোনো দিন। প্রথম দিন থেকেই আমরা সঠিক বিচার দাবি করে এসেছি। তবে কে দোষী, সেটা পুলিশই জানাবে।
  • Link to this news (বর্তমান)