একবালপুরে যুবতীর গলায় ছুরি ধরে ১০ লক্ষের সোনার গয়না ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৪
বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুবতীকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটল একবালপুরে। রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। সব মলিয়ে ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার অলঙ্কার লুট হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাকাতিতে নেতৃত্ব দেয় উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার বাসিন্দা এক মহিলা। দুষ্কৃতীদের হুমকি সত্ত্বেও যুবতী ভয় না পেয়ে চিৎকার শুরু করলে ব্যাগ ভরতি সোনার অলঙ্কার নিয়ে চম্পট দেয় দুই দুষ্কৃতী। অন্য চারজনকে স্থানীয়রাই পাকড়াও করে একবালপুর থানার হাতে তুলে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মহিলা ডাকাত সাজদা রিয়াজসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একবালপুরের ডঃ সুধীর বোস রোডের বাসিন্দা শাবানা খাতুন রবিবার রাতে বাড়িতে একাই ছিলেন। বাড়ির অন্য সদস্যরা গিয়েছিলেন আত্মীয়ের বাড়ি। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এক মহিলার নেতৃত্বে জনা ছয়েক দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ভিতরে ঢুকেই এক মহিলা তাঁর মুখ চেপে ধরে। সেই সঙ্গে মারধর করতে থাকে। অন্য একজন তাঁর গলায় ছুরি ধরে বসে থাকে। দুষ্কৃতীরা শাসায়, তিনি যেন চিৎকার না করেন। বলে, কোনো শব্দ করলে খুন করে ফেলা হবে। এর মধ্যে বাকিরা আলমারির চাবি কোথায় আছে জেনে নিয়ে সেখানে থাকা সোনার অলঙ্কার লুট করে নিজেদের ব্যাগে ভরতে থাকে। শাবানা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ভয় না পেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। এর মাঝে দুই দুষ্কৃতী ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। বাকিরা পালাতে না পারেনি। স্থানীয়রা একবালপুর থানায় ফোন করে বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে এক মহিলাসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, বাগদার বাসিন্দা সাজদাই এই ঘটনার মূল মাথা। সে অন্য দুষ্কৃতীদের জোগাড় করে এখানে নিয়ে এসেছিল। তার আগে এলাকা ঘুরে যায়। এরপরই চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানা। তাদের জেরা করে বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। তারা ধরা পড়লেই লুট হওয়া গয়নার খোঁজ মিলবে বলে আশাবাদী পুলিশ। তবে বৃদ্ধার কোনো আত্মীয় বা পরিচিত কেউ দুষ্কৃতীদের ভাড়া করে এনে এই ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, তদন্তে তাও দেখা হচ্ছে।