সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
দিন কয়েক আগে অযোধ্যার রামমন্দিরে দাঁড়িয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, ‘মন্দির তৈরির জন্য যদি ৫০০ বছর অপেক্ষা করতে পারেন ধর্মপ্রাণ ভারতবাসী, তাহলে প্রণামী চুরির সঙ্গে জড়িতদের ধরার জন্য তাঁরা ১৫ দিন ধৈর্যও ধরতে পারবেন৷’ রামমন্দিরের প্রণামী চুরির সঙ্গে জড়িতদের রেয়াত করা হবে না, সাফ জানিয়েছিলেন যোগী৷ সেই চুরির তদন্তে নেমে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে এল বিস্ফোরক সব তথ্য! রামমন্দিরের প্রণামী চুরির সন্দেহভাজনদের তালিকায় থাকা কয়েক জন গত দু’বছরে হোটেল কিনেছেন হরিদ্বার, ঋষিকেশ, মানালির মতো বিখ্যত পর্যটনস্থলে৷ হোটেল কেনার মত বিপুল টাকা এঁরা কোথায় পেলেন, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ, এঁরাই সিন্ডিকেট তৈরি করে মন্দিরের নির্মাণ কাজের সময়ে যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহে গড়ে ৪০ শতাংশ কমিশন নিয়েছেন ঠিকাদারদের থেকে! রামমন্দির নির্মাণ ও সংলগ্ন এলাকার সম্প্রসারণের জন্য ট্রাস্টের তরফে যে জমি কেনা হয়েছে, সেখানে নির্ধারিত দামের থেকে ১৭ গুণ বেশি দাম দেওয়া হয়েছে জমি বিক্রেতাদের, এমন অভিযোগও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। আপাতত সন্দেহের তালিকায় থাকা ১৫০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে তদন্তকারীরা ২৫ জন সন্দেহভাজনের একটি আলাদা তালিকা তৈরি করেছেন৷ এদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ১৫০ জন সন্দেহভাজনকেই আপাতত অযোধ্যার বাইরে যেতে বারণ করা হয়েছে৷
রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে পাঁচ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ এই ৫ জনই প্রণামীর নগদ টাকা গোনা এবং তা দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। সূত্রের খবর, এঁদের জেরা করে ২ কোটি টাকারও বেশি নগদ উদ্ধার করেছে যোগীরাজ্যের পুলিশ৷ রামনবমী, দিওয়ালি, দোল উত্সবের মতো বিশেষ বিশেষ উৎসবে রামমন্দিরে লাখ লাখ ভক্তের ঢল নামে, তখন প্রণামী বাক্সে পড়া যে নগদের যে হিসেব খাতায়–কলমে রয়েছে, সেটা দেখেই সন্দেহ জাগে তদন্তকারীদের৷ সন্দেহ তৈরি হয় মন্দিরে দান করা সোনা-রুপো এবং অন্যান্য গয়নার পরিমাণ নিয়েও৷ তদন্ত শেষে মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করতে পারে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, এমনটাই সূত্রের খবর৷