• আবাসিক বিল্ডিংয়ের অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা, লখনৌয়ের ‘নরককুন্ড’-এ ১৫ জনের মৃত্যুতে দায়ী অনিয়ম?
    এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
  • দাউ দাউ করে জ্বলছে বিল্ডিং। পালানোর কোনও রাস্তা নেই। নীচে নামার একমাত্র সিঁড়ি ধোঁয়া ও আগুনের কবলে। বাঁচার রাস্তা এক মাত্র জানলা। তাই সেখান থেকেই লাফ। আর যাঁরা সেই পর্যন্তও পৌঁছতে পারেনি, তাঁরা মৃত্যুপুরীতেই অসহায় ভাবে আটকে পড়েন। কোচিং ও অ্যানিমেশন ইনস্টিটিউটে পড়তে এসে অন্ধকূপে আটকে ঝরে গেল ১৫টি তরতাজা প্রাণ। দুর্ঘটনার পুলিশি তদন্তে নেমে ছত্রে ছত্রে উঠে আসছে একগুচ্ছ অনিয়ম।

    উত্তর লখনৌয়ের ঊষা মেহতা মার্গের যে তিন তলা বিল্ডিংয়ে আগুন লেগে এত প্রাণহানি হয়েছে, সরকারি নথি অনুযায়ী সেটি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং— অথচ বছরের পর বছর ধরে সেখানেই চলছিল নানা ধরনের ব্যবসা।

    জানা গিয়েছে, লখনৌ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (LDA) এবং পুরসভার কর সংক্রান্ত নথিতেও এই বিল্ডিংকে বসতবাড়ি হিসেবেই দেখানো ছিল। কিন্তু বাস্তবে ২০১৪ সালের পর থেকে ধাপে ধাপে সেখানে বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়। বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে দোকান, পোষ্য প্রাণীর ক্লিনিক এবং উপরের তলায় অ্যানিমেশন ও কোচিং সেন্টার চালানো হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।

    সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রায় ১,৯৯২ বর্গফুট জায়গার উপর তৈরি এই বিল্ডিংয়ের মালিকানা একাধিকবার বদলেছে। ২০১৪ সালে নতুন মালিকদের নামে বাড়ির মালিকানা হস্তান্তরিত হওয়ার পরে আবাসিক বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, নিয়ম না মেনে বাড়ি তৈরি হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে বাড়ি ভাঙার নির্দেশ জারি হয়। যদিও মাত্র দুই মাসের মধ্যে সেই নির্দেশ প্রত্যাহারও করা হয়। বাড়ি ভাঙা রদের সিদ্ধান্ত কার তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গোটা বিল্ডিংয়ের কোনও ফায়ার এক্সজ়িট ছিল না। ঢোকা ও বেরোনোর জন্য মাত্র একটি রাস্তা। ফলে সিঁড়ি আগুন ও ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় বিল্ডিং থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, অনেকে বাইরের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও অটোমেটিক দরজা কাজ না করায় মৃত্যুকূপেই আটকে পড়েও অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান।

    এই ঘটনার পরে প্রশাসনিক স্তরেও কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দুই সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই চার সরকারি আধিকারিককে সাময়িক ভাবে বরখাস্তের নির্দেশ। একইসঙ্গে বিল্ডিং মালিক ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই কেসে যুক্ত প্রায় ১৬ জন আধিকারিকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে— অনুমোদন ছাড়া কী ভাবে বিল্ডিংটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হচ্ছিল, এখন সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।

  • Link to this news (এই সময়)