• ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত বন্ধ চটকল খোলার প্ল্যান অর্জুনের
    বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
  • সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতিতে চটশিল্পের গুরুত্ব বিরাট। এই শিল্পে হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। কিন্তু একাধিক জুটমিল বা চটকল অনেকদিন যাবৎ বন্ধ। স্বভাবতই চরম বিপদে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা এবং তাঁদের পরিবারগুলি। রাজ্যে পালাবদলের পর, নতুন বিজেপি সরকার সমস্ত বন্ধ চটকল খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। জুটমিল মালিক এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলিকে নিয়ে বৈঠকের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য শ্রমদপ্তর। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সমস্ত বন্ধ জুটমিল খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    ইতিমধ্যে জগদ্দলের অ্যালায়েন্স জুটমিল খুলে গিয়েছে। সেখানে আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ শুরু করেছেন। স্বভাবতই রীতিমতো খুশির পরিবেশ ফিরেছে ওই চটকলে। এই উপলক্ষ্যে শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে মিষ্টিও বিলি করেছেন। এবার বাকি বন্ধ চটকলগুলি খোলার লক্ষ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়েছে। সমস্ত সমস্যা নিয়েই ইতিবাচক আলোচনা চলছে সেখানে। ফ্যাক্টরি ইনস্পেক্টররা বিভিন্ন মিল পরিদর্শন করছেন। সমস্যা সমাধানে বিস্তারিত আলোচনাও করছেন তাঁরা। বন্ধ জুটমিলগুলিতে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মরত। সমস্যায় পড়েছে তাঁদের পরিবারগুলি।

    এই ব্যাপারে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, পাটচাষ কমে গিয়েছে। দেখা দিয়েছে কাঁচামালের অভাব। মাঝখানে দালাল থাকায় চাষিরা সেভাবে দাম পাচ্ছেন না। চটশিল্পের এটাই সবচেয়ে বড়ো সমস্যা। এছাড়া মিলগুলিতে মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছিল দালালরাজ। এটা তৃণমূল সরকারের পাপ। দালালরাজ বন্ধ করতে আমরা এসে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছি। মন্ত্রী বলেন, জুটমিল আন্দোলনের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন যাবৎ যুক্ত। এই শিল্পের শ্রমিকদের সমস্যা আমি বুঝি। প্রত্যেকটি মিল যাতে সারাবছর খোলা থাকে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেই উদ্যোগই নেওয়া হয়েছে। ফ্যাক্টরি ইনস্পেক্টররা বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে দেখছেন কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না। তাঁরা সমস্ত কিছু নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে খতিয়ে দেখছেন। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত বন্ধ জুটমিল খুলে যাবে। আশা করছি, জুটমিল সমস্যার সমাধান আমরা করতে পারব। এতে হাজার হাজার শ্রমিক উপকৃত হবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)