২৮ বছর পরে প্রত্যাবর্তনেই চমক, হাল্যান্ডের দাপটে বিশ্বকাপের নকআউটে নরওয়ে
এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
শেষবার ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে খেলেছিল নরওয়ে। সে বার ইউরোপের এই দেশের হয়ে নেমেছিলেন আলফ-ইঙ্গে হাল্যান্ড। শেষ ষোলো পর্যন্ত গিয়েছিল নরওয়ে। তার পরে কেটে গিয়েছে ২৮ বছর। এ বার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে ফের দাপট দেখাচ্ছে নরওয়ে। সৌজন্যে তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড। তাঁর জোড়া গোলেই মঙ্গলবার ভোরে সেনেগালকে ৩-২ ফলে হারিয়ে দিল নরওয়ে। টানা দু’ম্যাচ জিতে পৌঁছে গেল FIFA World Cup-এর নকআউটে। পরপর দুই ম্যাচে জোড়া গোল এল হাল্যান্ডের পা থেকে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপের মতো দুরন্ত ফর্ম বজায় রাখলেন তিনিও। এই প্রথম বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে জয় তুলে নিল নরওয়ে।
সেনেগালের ডিফেন্সের ভুলের সুযোগে লিড নেয় নরওয়ে
এক দিকে হাল্যান্ড, অন্য দিকে সাদিও মানে। শক্তিশালী দুই দলের মধ্যে উপভোগ্য লড়াইয়ের আশায় ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। তবে ডিফেন্সের ভুলের মাশুল গুনতে হয় সেনেগালকে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লিড নেয় নরওয়ে। ৪৩ মিনিটে সেনেগালের তারকা ডিফেন্ডার কালিদু কৌলিবালি একটি লুজ় বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসন। বক্সে ঢুকে জোরালো শটে গোলকিপার এদুয়ার্দ মেন্দিকে পরাস্ত করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধেই ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
নরওয়ে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও মেন্দি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। হালান্ডের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, দাপট হাল্যান্ডের
হাফটাইমের পরে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় নরওয়ে। ৪৮ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় তারা। দারুণ কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠেন তারকা ফুটবলার মার্টিন ওডেগার্ড। মাপা পাস বাড়ান হাল্যান্ডকে লক্ষ্য করে। সেই বল ধরে ফিনিশ করতে ভুল করেননি হাল্যান্ড। গোল বাঁচানোর কোনও সুযোগই পাননি মেন্দি। তবে সেনেগাল দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। বল পায়ে দারুণ স্কিলের পরে সাদিও মানে বল বাড়ান ইসমাইলা সারকে। ঠান্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান কমান তিনি। কিন্তু ফের ডিফেন্সের ভুলে ভুগতে হয় সেনেগালকে।
আবার ভুল করে বসেন কালিদু কৌলিবালি। ৫৮ মিনিটের মাথায় প্যাট্রিক বার্গের শট ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে না পারায় সুযোগ পেয়ে যান হালান্ড। তাঁর জোরালো ভলি ক্রসবারে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। নিজের দ্বিতীয় ও দলের তিন নম্বর গোলটি করেন হাল্যান্ড। নরওয়ের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করে ফেললেন হাল্যান্ড। আরও একবার প্রমাণ করলেন কেন তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। ম্যাচ শেষের ঠিক আগে সেনেগালের হয়ে গোল করে ব্যবধান কমান সেই ইসমাইলা সার। তবে জয় পেতে সমস্যা হয়নি নরওয়ের।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নিল নরওয়ে। ‘I’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচেই নির্ধারিত হবে গ্রুপশীর্ষে থেকে পরবর্তী পর্বে যাবে কোন দল। টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে রয়েছে সেনেগাল।