রাজ্য বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা, কোন সিদ্ধান্তে আশার আলো দেখছেন শিল্পপতিরা?
এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
বাংলার বাজেট নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শোনা গেল শিল্পমহলের তরফে। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে ঢালাও বরাদ্দ করা হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ক্ষেত্রে। শিল্প ও কৃষি নিয়ে ঢালাও ঘোষণা করা হয়েছে, বহু প্রকল্প শুরুর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পক্ষেত্রে একাধিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব নিয়ে বাজেটে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে খুশির আমেজ দেখা গিয়েছে বাংলার শিল্পমহলে।
অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া বলেছেন, এই বাজেটের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো—এটি অর্থনীতিকে টুকরো টুকরো ভাবে না দেখে, সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছে। নতুন বিমানবন্দর ও পরিকাঠামো তৈরির মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের প্রশংসা করেছেন তিনি। নতুন শিল্পোন্নয়নের উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন তিনি। এই সবগুলি ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদী তিনি।
RPSG গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এই বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই বাজেট পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির পথে বড় পদক্ষেপ। ভবিষ্যতের জন্য অর্থনীতি প্রস্তুত করতে সরকারের যে দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে, সেটা প্রকাশ পেয়েছে।’ অবকাঠামো-পরিকাঠামো, শিল্প, প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ক্লিন এনার্জির উপর এই বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এটি নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান তৈরির দারুণ সুযোগ এনে দিতে পারে। এই বাজেটকে দূরদর্শী বাজেট বলেও অভিহিত করেছেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।’
Keventer Group-এর চেয়ারম্যান ময়ঙ্ক জালানের মুখেও রাজ্য বাজেটের প্রশংসা শোনা গিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘সরকার একটি দূরদর্শী বাজেট পেশ করেছে, যেখানে শিল্প, পরিকাঠামো, কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার উপর বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।’ বাজেটে কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সেক্টরে জোর দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়টিকে স্বাগত জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
Purti Realty-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর মহেশ আগরওয়ালের মতে, এ বারের রাজ্য বাজেট বিনিয়োগকারী ও শিল্পজগতের জন্য পজ়িটিভ বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট সেক্টরের জন্য ভালো বার্তা এনেছে বলে তাঁর মত। পরিকাঠামো উন্নতি, আঞ্চলিক স্তরে ভালো যোগাযোগ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্র এবং ভূমি সংস্কারে জোর দিয়েছে রাজ্য, এর প্রশংসা করেছেন তিনি। বিশেষ করে চিংড়িহাটা-নিউ টাউনের এলিভেটেড করিডর, কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট সংক্রান্ত ঘোষণার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
Laser Power & Infra-র চেয়ারম্যান ও এমডি দীপক গোয়েল জানান, এই বাজেট রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। ১২টি শহরে ১৫টি নতুন সাব-স্টেশন তৈরি এবং আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলিং-এর ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর মতে, ‘এটি প্রমাণ করে যে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি করতে, বিদ্যুতের অপচয় কমাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করতে সরকার কতটা আন্তরিক।’ ব্যবসার ক্ষেত্রে সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স-এর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে AI ও ক্লাউড পরিকাঠামো তৈরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
GEECL-এর ভাইস চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রশান্ত মোদী বলেছেন, ‘এই বাজেট সত্যিই অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার ক্ষেত্রে এ বার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।’ সরকারি অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, শিল্পের জন্য জমির তালিকা তৈরি এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে একটি নতুন আইন আনার প্রস্তাবের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
ASSOCHAM-এর চেয়ারম্যান তরণজিৎ সিং বাজেটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। এ বারের বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারত-এর লক্ষ্যের সঙ্গে মিলিয়ে অর্থমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।’ মূলধনী খরচের গতি বজায় রেখে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে রাজ্য সরকার যে ভূমিকা নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়া বাজার, দক্ষ শ্রমিক, বন্দর, খনিজ সম্পদ এবং শিল্প কাঠামোর দিক থেকেও রাজ্যটি সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।’