• জঙ্গলমহলের জন্য বড় উপহার! বাঁকুড়ায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর, ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়
    News18 বাংলা | ২৩ জুন ২০২৬
  • রাজ্য বাজেটের হিসাব-নিকাশ অব্যাহত। তবে তার মধ্যেই দেখে নেওয়া যাক জঙ্গলমহলের চারটি জেলা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ঠিক কী কী হতে চলেছে।

    বাঁকুড়াকে বলা হয় পশ্চিমবঙ্গের "এডুকেশন হাব", বাজেটে উঠে এল শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় রদবদল। এবারের রাজ্য বাজেটে বাঁকুড়ার জন্য অন্যতম বড় ঘোষণা হল বাঁকুড়া শহরে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংস্থান-এর অধীনে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্থাপন। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষক পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, বিভিন্ন সামাজিক ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি জেলায় ফ্রি কোচিং সেন্টারের সুবিধাও মিলবে।

    লাল মাটির জেলা পুরুলিয়ায় রয়েছে বিস্তীর্ণ জমি। এবং পুরুলিয়াকে বলা হয় ছোটনাগপুর মালভূমির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একটি গেটওয়ে। সে কারণেই পুরুলিয়ার জন্য এবারের বাজেটে এসেছে বড় অবকাঠামোগত ঘোষণা। পুরুলিয়ায় নতুন বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন শিল্প এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। দীর্ঘদিনের উন্নয়নের দাবির মাঝে এই ঘোষণা জেলার অর্থনীতিতে একটা পজিটিভ প্রভাব ফেলবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

    গভীর গহীন জঙ্গলে ঘেরা ঝাড়গ্রাম। জঙ্গলমহলের নতুন সংস্করণ। অসম্ভব পর্যটন সম্ভাবনা। বাজেটেও তার দিকেই ইঙ্গিত। ঝাড়গ্রামের জন্যও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ দুই বড় ঘোষণা। রাজ্য সরকার ঝাড়গ্রামকে একপ্রকার মেডিকেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে,ঝাড়গ্রামে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর, মেডিকেল হাবের সম্ভাবনা, মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল ও মেডিকেল ট্যুরিজমে বড় গুরুত্ব রাজ্য বাজেটে। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বনাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ১৫০ কোটি টাকা খরচা করে ঝাড়গ্রামে হতে চলেছে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়।

    "ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান" এই কথাটা শুনলেই মুচকি হেসে বেরিয়ে যান সাধারণ মানুষ। অনেকটা সোনার পাথরবাটির মতই শোনাত। তবে এইবার রাজ্য বাজেটে এক চমকপ্রদ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে সামনে এসেছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১২০০ কোটি টাকার ঘোষণা। বহুদিনের জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও জেলার সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

    রাজ্য বাজেট ঘোষণার পর কোন জেলা কি পেল তাই নিয়ে চলছে হিসাব নিকাশ। তবে সেই দিক থেকে দেখতে গেলে প্রান্তিক পিছিয়ে পড়া বাঁকুড়া জেলা যেন পাত্তাই পেল না তেমনভাবে, এমনটাই ভাব প্রকাশ করেছেন বাঁকুড়া বাসি। অপরদিকে নব্য জেলা ঝাড়গ্রাম যেন পেল একটি হৃৎপিণ্ড এবং একটি ফুসফুস। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং একটি আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়।
  • Link to this news (News18 বাংলা)