• খরা মাটিতেও 'সোনা ফলাচ্ছে' এই ফল, একবার চাষ করলে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না
    News18 বাংলা | ২৩ জুন ২০২৬
  • গতানুগতিক ধান, আলু বা সবজির চাষের বাইরে বেরিয়ে বিকল্প কৃষিতে নতুন দিশা দেখালেন পুরাতন মালদহের চাষি মনতোষ রাজবংশী। জেলার ইতিহাসে প্রথমবার তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে আলিয়া ও মধুমতি এই দুই প্রজাতির বিশেষ মাস্কমেলনের সফল চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। পুরাতন মালদহের নারায়ণপুর এলাকায় তাঁর এই উদ্যোগ এখন কৃষকদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ফলচাষি মনতোষ রাজবংশী জানান, “মূলত দক্ষিণ ভারতের রাজ্যে এই ফলের ব্যাপক ফলন ও চাহিদা। এই ফলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কম পরিচর্যায় ভাল ফলন। বর্ষাকালে একবার সেচ দিলেই গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে। মাচা পদ্ধতিতে চাষ করলে ফলন আরও বাড়ে, আবার খরার সময় মাটিতেও সহজেই উৎপাদন সম্ভব। প্রতিটি গাছে একাধিক ফল ধরেছে, দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত পরিমাণের ফল হয়েছে।”

    এই বিকল্প চাষ প্রসঙ্গে মালদহ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান দূষ্য়ান্ত কুমার রাঘব জানান, “পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলের বাজার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। জেলায় আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফল ও ফসলের চাষ হলেও মাস্কমেলনের মত উচ্চমূল্যের ফল এখনও সেভাবে বিস্তার লাভ করেনি। কৃষকদের আয় বাড়াতে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র নিয়মিত বিকল্প ফসলের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে।

    জানা গিয়েছে, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে মাস্কমেলন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে ভিনরাজ্যে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতি কেজি পর্যন্ত দাম থাকে। ফলে এটি লাভজনক বিকল্প ফল হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তবে মালদহের মাটিতে এই ফলচাষির প্রথম বিকল্প ফলচাষের এমন সফল উদ্যোগ ভবিষ্যতে কৃষকদের আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে সহায়ক হবে বলে অভিমত অনেকের।
  • Link to this news (News18 বাংলা)