কলকাতা, 23 জুন: বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলা গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনের রিটানিং অফিসারকে গত 4 মে অর্থাৎ ফল ঘোষণার দিনের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কাউন্টিং সেন্টার (সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল)-এর ভিভিপ্যাট, ইভিএম মেশিন, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ, ওই সমস্ত নথি যেন কোনওভাবেই নষ্ট করা না-হয়। বিবাদী পক্ষকে হলফনামা দেওয়ার বিষয় কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি এদিন ৷ কারণ, আইন অনুযায়ী ইলেকশন পিটিশনের ক্ষেত্রে...
মামলায় সংযুক্ত অপরপক্ষকে নোটিশ জারি করতে হবে।
পরবর্তী শুনানি দিন সংযুক্ত সকল পক্ষ হাজির হলে তবেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন বিচারপতি ৷
মামলায় সংযুক্ত সকল পক্ষ পরবর্তী শুনানি দিন হাজির না-হলে 'পেপার পাবলিকেশন' প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে হয় ৷
পরবর্তী শুনানির দিন কেউ হাজির না-হলে তখন আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ৷
শুনানিতে কী কী হল:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়- গণনার 12 দফা পর্যন্ত ঠিক ছিল। 13 দফার শুরু হতেই শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্টরা ভিতরে প্রবেশ করেন। তারপরই অভাবনীয় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় ৷ কাউন্টিং সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার আর্জি জানাচ্ছি।
বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত- মিঃ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আমার দাদা ভারতীয় জনতা পার্টির একজন মুখপাত্র। ফলে এই মামলার শুনানি করার আগেই বিষয়টি জানাচ্ছি। আপনাদের এই মামলার এই বেঞ্চে শুনানি করতে কোনও সমস্যা হবে না তো ?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়- মাননীয় বিচারপতি আপনার উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে। কলকাতা হাইকোর্টের আপনি একজন অত্যন্ত বিশিষ্ট বিচারপতি। ফলে আপনাকে নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। রিটানিং অফিসার এর আগে অর্থাৎ 2021 সালে নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনের সময় দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচনের 2 মাস আগে তাঁকে এই কেন্দ্রে আনা হয়। তাঁকেই আবার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । ফলে এখানে পক্ষপাত হতে পারে কি না আদালতই বিচার করুক। এখন রাজ্যের যিনি মুখ্যসচিব হয়েছেন তিনি মুখ্য নির্বাচনা আধিকারিক ছিলেন। সুব্রত গুপ্ত যাঁকে স্পেশাল রোল অবজারভার করা হয়েছিল, তাঁকেই নির্বাচনে পরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান পরামর্শ দাতা করা হয়েছে। সমস্ত বিষয়গুলি এখন নজরে এসেছে ৷ শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে 15 হাজার ভোটে পরাজিত হন।
বিচারপতি- মামলা সময়ের মধ্যে দায়ের হয়েছে ?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়- হ্যাঁ সময়ের মধ্যে দায়ের হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার আর্জি জানাচ্ছি। 12 দফার পর আচমকা 80 শতাংশেরও বেশি ভোট শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে যেতে শুরু করে। দুপুর 3টে নাগাদ শুভেন্দু অধিকারী কাউন্টিং সেন্টারে প্রবেশ করে ঝামেলা পাকাতে বলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার সহযোগিতায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্টিং এজেন্টদের উপর আক্রমণ করা হয় বিজেপির কাউন্টিং এজেন্টদের দ্বারা। 12 দফা পর্যন্ত প্রায় 7 হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম আমরা। তাহলে হঠাৎ করে 13 দফা থেকে 81 শতাংশ ভোট পেলেন শুভেন্দু অধিকারী। CCTV, VVPAT সংরক্ষণ করা হোক। আমরা চার্ট দিয়ে দেখিয়ে দেব, যে কীভাবে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে । আমাদের হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে সময় দেওয়া হোক।