• 'নেভার' শব্দটার মধ্যেও একটা পজিটিভিটি আছে - ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
    eTV Bharat | ২৩ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 23 জুন: মুক্তির অপেক্ষায় 'নেভার মাইন্ড' (Never Mind ) ৷ এই সিনেমার হাত ধরে একদিতে যেমন পরিচালনায় হাতেখড়ি চৈতি ঘোষালের ৷ তেমনই সিনেমায় আত্মপ্রকাশ হয়েছে চৈতির ছেলে অমর্ত্য রায়ের ৷ বিপরীতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta) ৷ তাঁরই প্রযোজনায় আসছে এই সিনেমা ৷ মুক্তির আগে খোলা মনে আড্ডায় ঋতুপর্ণা ৷

    ইটিভি ভারত: এই ছবিতে তৃণা আপনার চরিত্রের নাম। একটু কি ভাঙা যায় চরিত্রটা?

    ঋতুপর্ণা: খুব বেশি ভাঙতে পারব না। তৃণার ভিতরে অনেকরকমের অনিশ্চয়তা আছে। সে ইংল্যান্ড থেকে আসে। এসে কিছু না কিছু খুঁজতে থাকে। পার্কস্ট্রিটের একটা বার-এ এসে যেটার নাম 'নেভার মাইন্ড'। সেখানেও সে কিছু খুঁজতে থাকে অনবরত। সেখানে তার বহু মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, আলাপ হয়। জানতে পারে অনেককিছু বদলে গেছে এই শহরটার। আর সেখান থেকেই তৃণার উদ্ভব। বাকিটা জানতে হলে সিনেমাটা দেখতে হবে।

    ইটিভি ভারত: চৈতি ঘোষালের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগল?

    ঋতুপর্ণা: চৈতি দি'র সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক বছরের। আমার আর চৈতি দি'র মধ্যে দিদি-বোনের সম্পর্ক। একদিন ফোন করে বলে, একটা বিষয় ভেবেছি, তোকে না বললে হবে না। আমি তখন বাইরে ছিলাম। এরপর চৈতি দি এসে গল্পের আইডিয়া দেয় আমাকে। গল্পটা সম্রাট ঘোষাল আর মিতু (মিতালি রুদ্র) আমাকে শোনায়। ওদেরই গল্প 'নেভার মাইন্ড'। গল্পটা যেদিন শোনায় সেদিন আমার একটা ফোটোশুট চলছিল। গল্পটা শুনতে শুনতে আমার চোখে জল চলে এসেছিল। আমাকে গল্পটা খুব ধাক্কা দেয়। তাই আমি সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে গিয়েছিলাম কাজটা করার জন্য। ছবিতে রক বাদশা রূপমের গান আছে। এটা আমাদের ছবির অন্যতম সম্পদ।

    ইটিভি ভারত: কোনও ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক কিংবা পরিবেশক হিসেবে যখন থাকেন, তখন মনের মধ্যে কী চলে? টাকাপয়সার চিন্তা মাথায় কাজ করে না সেই সময়?

    ঋতুপর্ণা: টাকাপয়সা নিয়ে চিন্তা তো থাকেই। কিন্তু আমি সবকিছুতে টাকাপয়সা নিয়ে ভাবি না। সিনেমাটা তৈরি করতে হবে, কীভাবে ভালোভাবে কাজটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সেটাই মাথায় রাখি।

    ইটিভি ভারত: বাস্তবে এই শহরটা কতটা বদলে গেছে বলে মনে হয়?

    ঋতুপর্ণা: অনেকটাই বদলে গিয়েছে। অনেক পরিচিত জায়গার চেহারা বদলে গিয়েছে। কোনও জায়গায় হয়তো অদ্ভুত দেখতে বাড়ি ছিল, সেটা ভেঙে এখন মাল্টি স্টোরেজ হয়ে গিয়েছে। অনেক মাঠ আজ কংক্রিটের জঙ্গল হয়ে গিয়েছে। তবে, কিছু সৌন্দর্যায়নও হয়েছে। লেক পাল্টে গিয়েছে, অনেক পার্ক হয়েছে। তবে, পার্কস্ট্রিট আমি যা দেখেছিলাম মোটামুটি তেমনই আছে। একটা বিলিতি ছোঁয়া এখনও আছে পার্কস্ট্রিটে। ট্রিঙ্কাসের নস্ট্যালজিয়া আমরা এই ছবিতে পাবো। ঊষা দি ট্রিঙ্কাসে আমাদের পোস্টার লঞ্চ ইভেন্টে এসেছিলেন। উনিই আমাদের পোস্টার লঞ্চ করেন। সবমিলিয়ে পার্কস্ট্রিট আমাদের কাছে একটা খুব প্রিয় জায়গা। আমার মায়ের বাড়ি পার্কস্ট্রিটের কাছেই ছিল। মা নেই, মন খারাপ লাগে। মা আজ থাকলে ভালো হত। চৈতি দি'কে মা খুব স্নেহ করতেন। মা-বাবার আশীর্বাদে আশা করি ছবিটা ভালো চলবে।

    ইটিভি ভারত: 'নেভার মাইন্ড' শব্দটা আপনিও কি কথায় কথায় বলে ফেলেন? আর আপনার বিপরীতের কেউ ঘনঘন এই কথাটা বললে সেটা কীভাবে নেন?

    ঋতুপর্ণা: এই শব্দটা শুনতে শুনতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। 'নেভার মাইন্ড' কথাটার মধ্যে কোথাও পজিটিভিটিও থাকে। আমি সবসময় পজিটিভলি কিছু করতে চাই।

    ইটিভি ভারত: 'নেভার মাইন্ড' শব্দটা কখনও আপনার মনে বড় কোনও প্রভাব ফেলেছে বা কখনও মন ভেঙেছে এই শব্দটার জন্য?

    ঋতুপর্ণা: হ্যাঁ মন ভেঙেছে, কষ্ট পেয়েছি। তবে, পরক্ষণেই আমি সেটাকে ইতিবাচক দিক থেকে দেখার চেষ্টা করেছি। 'নেভার মাইন্ড' শব্দটার মধ্যে 'নেভার' কথাটা থাকলেও এটা ভীষণ পজিটিভ।

    ইটিভি ভারত: টলিপাড়াকে সুস্থভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে যে 19 জনের নাম প্রস্তাবিত হয়েছে, সেখানে আপনার নাম নেই। কী বলবেন?

    ঋতুপর্ণা: নেভার মাইন্ড (সহাস্যে)।
  • Link to this news (eTV Bharat)