• হানিমুন মার্ডারের তদন্তে নয়া তথ্য, স্ত্রীর ল্যাপটপে GPS ট্র্যাকার, গোপনে রুট বদল স্বামীর
    এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
  • মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী রাধা গায়ত্রীর (২৭) খুনের ঘটনায় নতুন সূত্র পেলেন তদন্তকারীরা। উত্তরাখণ্ড পুলিশের দাবি, স্ত্রীকে বিশ্বাস করতেন না তাঁর স্বামী সোমায়াজুলা শ্রীচরণ। তাই গোপনে স্ত্রীর ল্যাপটপে জিপিএস ট্র্যাকার বসিয়েছিলেন তিনি। এই তথ্য সামনে আসতেই সোমায়াজুলার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

    রাধার বাড়ি ছিল বিশাখাপত্তনমে। তবে কাজের সূত্রে তিনি গুরুগ্রামে থাকতেন। গত ১৫ জুন উত্তরাখণ্ডের মুসৌরির একটি হোমস্টে থেকে তাঁর অচৈতন্য দেহ উদ্ধার হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রাধার মৃত্যুর পরে তাঁর স্বামী সোমায়াজুলা দাবি করেছিলেন, রাত তিনটে পর্যন্ত তাঁরা মদ্যপান করেছিলেন। তার পরে সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘুমোতে যান। পরের দিন স্ত্রীর নগ্ন দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি।

    পুলিশ জানিয়েছে, মহিলা যেখানে পড়েছিলেন, প্রস্রাবে সেই জায়গা ভেসে যাচ্ছিল। বিছানার চাদরেও রক্তের দাগ পাওয়া যায়। সেটা গায়ত্রীর নাক থেকে রক্তক্ষরণের দাগ বলেই মনে করছিল পুলিশ। তাই গোটা ঘটনাটিকে রহস্যমৃত্যু হিসেবেই দেখছিলেন তাঁরা। কিন্তু মৃত্যুর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, হৃষীকেশে যাওয়ার কথা ছিল গায়ত্রী এবং শ্রীচরণের। কিন্তু তাঁরা রুট বদলে মুসৌরির একটি হোমস্টেতে গিয়ে ওঠেন। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, গায়ত্রীকে না জানিয়েই মুসৌরির হোমস্টে বুক করেছিলেন তাঁর স্বামী। এখান থেকেই সন্দেহ গাঢ় হয় পুলিশের।

    এর পরেই সোমায়াজুলা শ্রীচরণের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তখনই উঠে আসে, তিনি রাধার ল্যাপটপে জিপিএস ট্র্যাকার লাগিয়ে রেখেছিলেন। মৃতার বাবা পারুপুরী সুধাকরও জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, কারণে-অকারণে মেয়ের উপরে নির্যাতন করতেন শ্রীচরণ। এমনকী মানসিক হেনস্থার অভিযোগও করেছেন তিনি।

    প্রথমে পুরো ঘটনাটিকে রহস্যমৃত্যু হিসেবেই দেখা হলেও পরে শ্রীচরণের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। শুধু জিপিএস ট্র্যাকার নয়, তাঁদের ভ্রমণ ও হোটেল বুকিং সংক্রান্ত কিছু তথ্যও পুলিশের নজরে এসেছে। গায়ত্রী মদ্যপান করতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবাও। ফলে তাঁর স্বামীর সেই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে পুলিশ। এর পরেই সব কিছু খতিয়ে দেখে শ্রীচরণের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)