• ঐতিহাসিক দুর্গে হবু স্ত্রীয়ের জন্মদিন পালনের পরিকল্পনাই হয়ে গেল ‘মৃত্যুফাঁদ’? পুনে যুবকের মৃত্যুতে নয়া মোড়
    এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
  • বিয়ের আগে হবু স্ত্রীর জন্মদিন। তাই সেই জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। মহারাষ্ট্রের পুনের ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গই বেছে নিয়েছিলেন কেতন বিশাল আগরওয়াল। ৪০০ ফুট ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি রয়্যাল কায়দায় জন্মদিন উদযাপন। কিন্তু এই সেলিব্রেশন প্ল্যানই কি হয়ে দাঁড়িয়েছিল ২৬ বছর ব্যবসায়ীর মৃত্যুর কারণ? প্রথমে মনে করা হয়েছিল খাদের ধারে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে গিয়ে পা ফস্কে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও, তদন্তে এখন পুলিশের সন্দেহ— এটি পরিকল্পিত খুন হতে পারে। ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে ইতিমধ্যেই কেতনের বাগদত্তা এবং তাঁর এক পুরুষ বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নভেম্বরে বিয়ে ঠিক ছিল পুনের ব্যবসায়ী কেতন ও অভিযুক্ত তরুণীর। গত ১৮ জুন সকালে কেতন বিশাল আগরওয়াল তাঁর বাগদত্তা ও দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে পুনের কাছে লোহাগড় দুর্গে যান। উদ্দেশ্য ছিল রয়্যাল কায়দায় হবু স্ত্রীয়ের জন্মদিন উদ্‌যাপন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিছু সময় কাটানোর পরে কেতন খাদের ধারে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন। তাঁর হবু স্ত্রীয়ের দাবি, সেই সময়ে প্রায় ঝড় বইছিল, হঠাৎই ব্যালান্স হারিয়ে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান কেতন। কিন্তু পুলিশের মতে, ওই যুবকের হঠাৎ খাদে পড়ে যাওয়া কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ সন্দেহ করছে যে এই ষড়যন্ত্রটি কেতনের বাগদত্তা এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী ঘটিয়েছেন।

    ঘটনার পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে। তদন্তে অনুমান, কেতনের হবু স্ত্রী বহুদিন ধরে চেতন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। অভিযোগ, তরুণীর পরিবার কেতনকে পছন্দ করলেও তিনি তাঁকে বিয়ে করতে চাননি। ফলে, কেতন তাঁদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাঁকে রাস্তা সরিয়ে ফেলার ছক কষেছেন অভিযুক্ত তরুণী ও তাঁর প্রেমিক।

    এখানেই শেষ নয়, তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, লোহাগড় দুর্গে ট্রেকের আইডিয়া তরুণীই কেতনকে দিয়েছিলেন। গত ৩১ মে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, সেই সময়েই কেতনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু সেই প্ল্যান সফল হয়নি। তাই জুনে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রেমিকের সহায়তায় কেতনকে হত্যা করেন তিনি বলে অভিযোগ। তবে এই অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং পুলিশ সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করেনি।

    ঘটনার পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে। তদন্তে অনুমান, কেতনের হবু স্ত্রী বহুদিন ধরে চেতন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। অভিযোগ, তরুণীর পরিবার কেতনকে পছন্দ করলেও তিনি তাঁকে বিয়ে করতে চাননি। ফলে, কেতন তাঁদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাঁকে রাস্তা সরিয়ে ফেলার ছক কষেছেন অভিযুক্ত তরুণী ও তাঁর প্রেমিক।

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কেতনের বাগদত্তা এবং তাঁর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মোট আট জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

    কেতন আগরওয়াল পুনের গাহুঞ্জে এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পরিবারের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। চলতি বছরের শেষের দিকে তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিয়ের জন্য রাজস্থানের উদয়পুরে আয়োজনও শুরু হয়ে গিয়েছিল।

  • Link to this news (এই সময়)