এ বার অবৈধ দোকান নয়, থাকার ঝুপড়ি, বস্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন রেল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সাতসকালে টিকিয়াপাড়ার বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় চলল বুলডোজ়ার। শুরু হলো উচ্ছেদ অভিযান। সঙ্গে ছিল পুলিশের বড় বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই ঝুপড়ি, দোকান তুলে সাফ করে দেওয়া হলো পুরো এলাকা।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের টিকিয়াপাড়া থেকে হাওড়া যাওয়ার লাইনের পাশেই রেলের বিস্তীর্ণ জমি রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি ভাবে সেই জমি দখল করে ঝুপড়ি বানিয়ে থাকতেন কমবেশি ১০০টি পরিবার। রেলের দাবি, বহুবার নোটিস দিয়ে জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু অভিযোগ, তাতে কোনও লাভ হয়নি।
এর পরেই জমি দখলমুক্ত করতে এ দিন সকালে বুলডোজ়ার নিয়ে হাজির হয় পুলিশ ও আরপিএফ। প্রথমে মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে বলা হয়। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, যাঁরা বেআইনি ভাবে স্টেশন চত্বর দখল করে রেখেছেন, তাঁরা যেন অবিলম্বে নিজেদের ঝুপড়ি সরিয়ে নেন। বেশ কিছুক্ষণ সময়ও দেওয়া হয় তাঁদের। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। অভিযোগ, এগিয়ে এসে নিজেদের ঝুপড়ি সরিয়ে নেননি বাসিন্দারা।
এর পরেই নামে বুলডোজ়ার। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ঝুপড়ি। বেশ কিছু দোকানও ছিল। সেগুলিও ভাঙা পড়ে। উচ্ছেদ অভিযানের সময়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগে থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তা বলয়ে।
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, টিকিয়াপাড়ায় রেললাইনের ধারে বড় নর্দমা রয়েছে। তার উপরেই ঝুপড়িগুলি গড়ে উঠেছিল। ফলে বর্ষার সময়ে নর্দমাগুলি পরিষ্কার করা যেত না। ফলে রেল লাইনে জল জমে যেত। ব্যাহত হতো ট্রেন চলাচল। এ বারে সেই সব নর্দমা পরিষ্কার করতে চাইছেন রেল কর্তৃপক্ষ। তাই বস্তি উচ্ছেদ অভিযান বলে জানা গিয়েছে।
এর আগেও নোটিস জারি করে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের পাশাপাশি দমদম, হাবরা, যাদবপুরেও অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। স্টেশন চত্বর থেকে অবৈধ দোকান সরিয়ে দেওয়ায় যাত্রীদের একাংশ খুশি। তাঁদের মতে, এর ফলে হকারদের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমবে। স্টেশন চত্বর আরও খোলামেলা হবে। ব্যস্ত সময়ে চলাফেরায় সমস্যা হবে না। তবে ঝুপড়ি উচ্ছেদ এই প্রথম। বস্তির বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এ ভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো বেআইনি। তাঁদের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া হলো।