আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবারও হাওড়ায় বুলডোজার অভিযান। এবার ঘটনাস্থল হাওড়ার টিকিয়াপাড়া। আদালতের নির্দেশ মেনে রেলের জমি দখলমুক্ত করতে আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান। এলাকা ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছিল রেল পুলিশ, হাওড়া সিটি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল বাহিনী।
উচ্ছেদ শুরু হতেই এলাকাবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে যেমন চলল ঘরবাড়ি ভাঙার কাজ, অন্যদিকে উচ্ছেদ আটকাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
উচ্ছেদ অভিযানের জেরে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। এই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বসবাসকারী ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত সরকারি নথিপত্র রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নুরাশা বিবির কথায়, "আমাদের পরিবার ১৯৫০ সাল থেকে এখানে আছে। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আমরা কোথায় যাব? প্রশাসন আমাদের কোনও সময় দিল না, পুলিশ এসে উলটে মারধর করছে। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই।"
অনেকের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও জমি ও বিদ্যুৎ মিটারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। স্থানীয় সিমলি বেগম বলেছেন, "আমাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সব আছে। লাল ভাই নামে একজন আমাদের বলেছিল এখান থেকে কেউ তুলতে পারবে না। আমাদের থেকে সে বিদ্যুৎ মিটারের নামে আড়াই হাজার টাকাও নিয়েছে।"
অন্যদিকে, নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে মহম্মদ কাদির বলেন, "আমরা ঝুপড়িতে থাকি বলেই কি আমাদের কোনো সম্মান নেই? আমরা এখানকার বাসিন্দা। সরকার কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না করেই এভাবে আমাদের ঘর ভেঙে দিল।" নাসিমা বেগম নামে আরও এক ক্ষতিগ্রস্ত মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, ঘরে ছোট বাচ্চা রয়েছে, তাদের কথা না ভেবেই পুলিশ অমানবিক আচরণ করেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেলের জমি অবৈধভাবে দখল করে বহু মানুষ বসবাস করছিলেন। এমনকি সরকারি পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগও উঠেছে। আদালতের নির্দেশেই এই জমি উদ্ধারের কাজ চলছে। উচ্ছেদ চলাকালীন এলাকায় যাতে বড় কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।
এখনও পর্যন্ত ঘরছাড়া মানুষগুলোর পুনর্বাসন বা সরকারি সাহায্য নিয়ে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা না আসায়, এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন টিকিয়াপাড়ার বাসিন্দারা।