ভবানীপুরের ফলকে চ্যালেঞ্জ মমতার, বড় নির্দেশ আদালতের
আজকাল | ২৩ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি হারেননি, তাঁকে জোর করে হারানো হয়েছে। ৪ঠা মে, বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের দিনই ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে দাবি করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। এবার ভবানীপুর বিধানসভার ভোটের সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মমতা ব্যানার্জি। সেই মামলায় ওই কেন্দ্রের ইভিএম, ভিভিপ্যাট, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল কলকাতার উচ্চ আদালত। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও তথ্য মুছে দেওয়া যাবে না।
কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি দু'মাস পর।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের ভোটে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে 'প্রেসটিজ ফাইট'-এ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১১৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জি।
কী হল শুনানিতে?হাইকোর্টে মমতা ব্যানার্জির হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি। তিনি আর্জি জানান, গণনার ১২ দফা পর্যন্ত ঠিক ছিল। ১৩ দফার শুরু হতেই শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্টরা গণনা কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করেন। এরপরই অভাবনীয় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় ৷ ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে যেতে শুরু করে। দুপুর তিনটে নাগাদ শুভেন্দু অধিকারী গণনা কেন্দ্রে এসে ঝামেলা পাকাতে বলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার সহযোগিতায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্টিং এজেন্টদের উপর আক্রমণ চালায় বিজেপির কাউন্টিং এজেন্টরা। সিসিটিভি, ভিভিপ্যাট সংরক্ষণ করা হোক। হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সময় দেওয়া হোক। কাউন্টিং সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হোক।
পাল্টা বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত কল্যাণ ব্যানার্জিকে উদ্দেশ্য করে জানান, তাঁর দাদা বিজেপির একজন মুখপাত্র। ফলে মামলার শুনানি করার আগেই তিনি বিষয়টি জানান।
তখন আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি জানান, বিচারপতির উপর তাঁর সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে। কোনও সমস্যা নেই।
কল্যাণের দাবি, রিটানিং অফিসার এর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনের সময় দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে নির্বাচনের দুই মাস আগে ওই কেন্দ্রে আনা হয়েছিল। তাঁকেই আবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সহযোগি সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।। বিষয়টি পক্ষপাতিত্ব দাবি করে আদালতের উপরই বিচারের ভার ছেড়ে দেন।
এছাড়া কল্যাণ ব্যানার্জি উল্লেখ করেন, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিবই, ভোটের সময়ে মুখ্য নির্বাচনা আধিকারিক ছিলেন। সুব্রত গুপ্ত যাঁকে স্পেশাল রোল অবজারভার করা হয়েছিল, তাঁকেই নির্বাচনে পরে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য পরামর্শদাতা হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এরপরই ওই কেন্দ্রের ইভিএম, ভিভিপ্যাট, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল কলকাতার উচ্চ আদালত।