• ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড কলকাতা, পার্ক স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা, গাছ পড়ে স্তব্ধ একাধিক রাস্তা, সতর্কতা জারি
    আজ তক | ২৩ জুন ২০২৬
  • মঙ্গলবার দুপুর গড়াতেই আচমকা বদলে গেল আবহাওয়ার চেহারা। ঘন কালো মেঘে ঢেকে গেল কলকাতার আকাশ। দিনের আলো ফিকে হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। এরপরই শুরু হয় প্রবল ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ এবং মুষলধারে বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মেনে ঝড়ের দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা।

    প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। তার জেরে শহরের একাধিক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ে এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়। পার্ক স্ট্রিট, ধর্মতলা-সহ কলকাতার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তার ওপর গাছ উপড়ে পড়ার খবর মিলেছে। কোথাও কোথাও অস্থায়ী ডিভাইডার ও ট্রাফিক কোন উড়ে গিয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, ফলে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ধর্মতলা এলাকায়। সেখানে একটি বড় গাছ রাস্তার ওপর ভেঙে পড়ায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ সরানোর কাজ শুরু করেন। শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকাতেও জল জমার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

    কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে। অনেক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বর্ষণের ফলে কাঁচা বাড়ি এবং কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ, একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।

    আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টাও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

    বিকেলের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও আকাশ এখনও মেঘাচ্ছন্ন। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, রাত পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফের মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির শক্তির সামনে আধুনিক শহরও কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে।

     
  • Link to this news (আজ তক)