• ‘আগের সরকার শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে রেখেছিল’, তৃণমূল আমলকে তুলোধনা মুখ্যমন্ত্রীর
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৩ জুন ২০২৬
  • মঙ্গলবার ২৩ জুনকে ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদান দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে রজ্যে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে প্রথম তা হচ্ছে। বামফ্রন্ট সরকার থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কোনও আমলেই যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতাদের। এবার আগের তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর জন্মদিন ৬ জুলাই সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিরাট মূর্তি গড়ায় উদ্যোগ আগেই নিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুরহস্য নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রহস্যমৃত্যুকে’ চক্রান্ত বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কলকাতার হাজরা মোড়ে বিজেপির যুব মোর্চার রক্তদান শিবিরে যোগ দেন তিনি। এদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সুর চড়িয়ে অভিযোগ করেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দের কাজকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের আদর্শেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলবে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। আসল ঘটনা আড়ালে ছিল। ইচ্ছে করে ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।’

    এদিন কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিশাল মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে একে একে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা জড়ো হন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমে মাল্যদান করেন। তারপর একে একে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ, ড: হরেকৃষ্ণ বেরা, কৌশিক চৌধুরী-সহ অন্যান্যরা মাল্যদান করেন। আর এখান থেকেই তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে এই রাজ্যে জামাতি সরকার চলেছে। তারা শ্যামাপ্রসাদ, স্বামী প্রণবানন্দদের ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আগামী প্রজন্মের কাছে এই আদর্শ ছড়িয়ে দেব আমরা।’

    তাছাড়া উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি হয়েছে। ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই অর্থাৎ ১৫ দিন সরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা অনুষ্ঠান করতে হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উপর। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, ‘আগের সরকার শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তিনি না হলে হিন্দু বাঙালি মাতৃভূমি পেত না। পাকিস্তানে চলে যেতে হতো। ওই জায়গা থেকে উনিই আমাদের বাঁচিয়েছেন। এখন থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শ নিয়ে আমরা চলব। তিনি এক দেশ, এক নিশান, এক বিধানের দাবি করেছিলেন। শ্যামাপ্রসাদকে অসময়ে-অকালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারকেশ্বরে হিন্দু মহাসম্মেলনে রেজোলিউশন পাশ করিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। ভবানীপুরে আমার কাছে দু’বার হেরেছেন। তিনি শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেননি।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)