শাসক-বিরোধী দুপক্ষের বাদানুবাদ দিয়েই শুরু হলো বিধানসভার অধিবেশন। আগেই রাজ্যপালের ভাষণ দিয়ে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হয়েছিল। তারপর হয় রাজ্য বাজেট। মঙ্গলবার শুরু হয় রাজ্যপালের ভাষণের উপর চর্চা। এই অধিবেশনের দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা কক্ষ। মঙ্গলবার প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে উঠলে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ‘চোর’ স্লোগান দেন বিজেপি বিধায়করা। পালটা তিনিও বিজেপিকে জবাব দেন। আর নিশানা করেন ‘আসল’ তৃণমূল তথা বিরোধী দলনেতার তকমা পাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সরাসরি স্পিকারের সঙ্গেও সংঘাত লাগে তাঁর।
এদিকে বিধানসভায় প্রথমবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে কুণাল ঘোষ নিজের মেজাজে একে একে বিঁধতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়কদের। তাঁর সঙ্গে মৌখিক বিরোধ বাধে স্পিকার রথীন্দ্র বোসের। তাঁর অভিযোগ, কুণাল ঘোষ এমন সব কথা বলছেন যার বেশিরভাগ কার্যবিবরণীতে রাখা যাবে না। তিনি ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক বক্তব্য রাখছেন। আর তাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল বিধায়ক। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের উদ্দেশে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আপনি একজন ধর্ষণে অভিযুক্তকে বিরোধী দলনেতা করবেন, এটা হয় নাকি?’ বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে কুণালের মন্তব্য, ‘আমাকে ভয় পান বলে বলতে দিচ্ছেন না। পাঁচ বছর আমায় ভয় পেয়ে চলুন। গুরুত্ব দিয়ে চলুন। মনে রাখবেন আমার নাম কুণাল কুমার ঘোষ।’
অন্যদিকে কুণাল ঘোষ স্পিকারের আসনের দিকে তাকিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি আমাকে এখানে স্বাভাবিকভাবে বলতে দেবেন? নাকি যখন অন্য দল বা আপনাদের দলের সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন, তখন আমিও তাঁদের সময় চিৎকার করে বলতে দেব না? মনে রাখবেন, গলার জোর কিন্তু আপনাদের একার নেই, আমাদেরও আছে।’ তখন স্পিকারও কড়া সুরে জবাব দেন, ‘আপনি এখানে সম্পূর্ণ অবান্তর এবং নিয়ম-বহির্ভূত কথা বলছেন।’ পাল্টা কুণালের অভিযোগ, ‘আপনি স্পিকারের আসনে বসে আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলবেন না। মনে রাখবেন, আপনিও কিন্তু প্রথমবারই এখানে স্পিকার হয়ে এসেছেন। আর আপনি যদি আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলেন, তবে আমি আপনাকে রসগোল্লা খাওয়াব নাকি?’
তাছাড়া কুণাল আবার বলতে শুরু করলে চোর চোর স্লোগান উঠতে থাকে। তখন বিজেপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন ধেয়ে আসে কুণালের কাছে। প্রশ্ন ছোঁড়া হয়, ‘আপনি কোন তৃণমূল?’ জবাবে কুণালের তোপ, ‘এখনও হাতের আঙুল থেকে কালি যায়নি। আমি বেইমান নই।’ আর অধ্যক্ষের উদ্দেশে বলেন, ‘স্যার, ওরা আমায় ভয় পায়। তাই বলতে দিচ্ছে না। বালুরঘাটে যে ধর্ষণের মামলা আছে, তাঁকে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে। বিজেপির স্পনসর বিধায়ক এঁরা। পাণ্ডবরা কিন্তু পাঁচজন ছিল। কৌরবরা একশো হয়েও বাঁচেনি। যাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির বড় অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই-ইডি বা পুলিশের কেসগুলো এবার ঠিকঠাক চলবে তো?’ শেষে আবার উঠল চোর চোর স্লোগান।