বদলের বাংলায় ক্রমশ আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর জন্মদিন ৬ জুলাই সরকারি ছুটি, বিরাট মূর্তি গড়ায় উদ্যোগ আগেই গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এবার শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুরহস্য নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার, ২৩ জুন তাঁর মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, ‘‘তাঁর (শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। আসল ঘটনা আড়ালে ছিল। ইচ্ছে করে ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।”
আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন। সকাল থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর বিশাল মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে একে একে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা জড়ো হন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমে মাল্যদান করেন। এরপর একে একে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন, ড: হরেকৃষ্ণ বেরা, কৌশিক চৌধুরীরা।
মূর্তিতে মাল্যদান করে, প্রণাম জানিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। শ্যামাপ্রসাদ প্রসঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারকে জামাতের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আগের সরকার শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তিনি না হলে হিন্দু বাঙালি মাতৃভূমি পেত না। পাকিস্তানে চলে যেতে হতো। সেই জায়গা থেকে উনিই আমাদের বাঁচিয়েছেন। এখন থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শ নিয়ে আমরা চলব।” আজ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের প্রত্যেক স্কুলে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ পালনের কথা জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
কেওড়াতলার অনুষ্ঠান সেরে হাজরা মোড়ে যুব বিজেপির রক্তদান শিবিরে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁকে ঘিরে রীতিমতো জনতার ভিড় দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে কথা বলেন শুভেন্দু।