মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন হয়েও আস্থার মূল্য রাখতে পারেননি। তাঁকে ছেড়ে ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ভিড়ে পদও পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। এই বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য চোকাতে হচ্ছে প্রাক্তন মেয়রকে। সোমবারই ফিরহাদকে শোকজ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। আজ বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁকে বিধানসভার মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ পদ থেকে সরানোর আবেদন জানিয়ে রাতেই স্পিকারকে চিঠি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফিরহাদের বদলে মদন মিত্রকে (Madan Mitra) এই দায়িত্ব দিতে চান তিনি।
সূত্রের খবর, সোমবার ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের বিশেষ অধিবেশন, সাংবাদিক বৈঠকের মতো কার্যকলাপ দেখে রাতেই জাতীয় কর্মসমিতিতে রদবদল আনেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশোধিত কমিটি থেকে বাদ পড়েন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা। ঋতব্রত শিবিরে তাঁদের পদপ্রাপ্তিতেই কড়া সিদ্ধান্ত নেন দলনেত্রী। তাঁদের শোকজ করা হয়। একইসঙ্গে বিধানসভায় মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের মুখ্য সচেতক হিসেবে বেছে নেওয়া ফিরহাদের পদ কেড়ে নিতেও পদক্ষেপ করা হয়। রাত পৌনে ১১টা নাগাদ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে ইমেল পাঠিয়ে মমতা জানান, ফিরহাদ নন, তাঁর বদলে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে মুখ্য সচেতক হোন।
মঙ্গলবার সকালে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সাড়ে ১০টা নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) এই আবেদনের চিঠি নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, স্পিকার এই আবেদন খারিজ করে জানান যে বিষয়টি বিচারাধীন, তাই হস্তক্ষেপ করবেন না। তাতে তাঁকে জানানো হয়, বিরোধী দলনেতা কে, সেই বিষয়টি বিচারাধীন। চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতকের পদ নিয়ে কোনও আইনি টানাপোড়েন নেই। যদিও আজ, বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিন মুখ্য সচেতকের ভূমিকায় কে ছিলেন, তা স্পষ্ট হয়নি।