শিলিগুড়ি পুরনিগমের পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আর. বিমলা। দায়িত্বভার গ্রহণের পর পুরনিগমের কমিশনার, আধিকারিক এবং বিজেপির কোঅর্ডিনেটররা তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান। এদিন বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন-সহ বিজেপির একটি প্রতিনিধিদলও নতুন প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে শহরের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আর. বিমলা জানান, তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে পুরনিগমের পরিষেবাগুলি যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “মিউনিসিপাল সার্ভিস যাতে কোনও রকম ব্রেক না হয়, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। শহরবাসীর দৈনন্দিন পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে। পাশাপাশি সকলকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হবে।” তিনি আরও জানান, বর্ষার মরশুমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেই সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং নাগরিকদের ভোগান্তি কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বলেন, “বিগত পুরবোর্ড মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল বলেই সরকারকে শেষ পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ করতে হয়েছে।” তাঁর মতে, নতুন প্রশাসনের প্রথম কাজ হবে শহরবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির সমাধান করা। বিশেষ করে বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল জমা নিয়ে যে অভিযোগগুলি বারবার সামনে আসছে, সেগুলির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। এদিন বিজেপির প্রতিনিধিদল প্রশাসকের কাছে আসন্ন দুর্গাপুজোর বিষয়টিও উত্থাপন করে। অমিত জৈন বলেন, আর কয়েক মাসের মধ্যেই শহরের অন্যতম বৃহৎ উৎসব দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে।
তার আগে শহরের রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নাগরিক পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতির কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। যাতে উৎসবের সময় সাধারণ মানুষকে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়, সেই বিষয়েও প্রশাসনের নজর দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমে প্রশাসনিক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। এখন শহরবাসীর নজর থাকবে, জল জমা, রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং অন্যান্য নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রশাসন কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে তার ওপর।