সিসিটিভি থেকে পুষ্টিকর খাবার, কাউন্সিলিং! সরকারি হোমের ভোলবদলে বড় পদক্ষেপ পূর্ব মেদিনীপুরে
News18 বাংলা | ২৩ জুন ২০২৬
: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং নারীদের জন্য পরিচালিত সরকারি হোমগুলির কার্যকলাপে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে বিশেষ উদ্যোগী হল জেলা প্রশাসন। সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার সরকারি হোমগুলির সার্বিক তদারকি ও সুরক্ষার দায়িত্ব সরাসরি স্থানীয় প্রশাসনের উপর ন্যস্ত রয়েছে। আর এই নির্দেশের ভিত্তিতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় জুড়ে জেলা প্রশাসন সক্রিয়তা তুঙ্গে। হোমের আবাসিকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মান খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দফায় দফায় পরিদর্শন শুরু করেছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং নারীদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হোম রয়েছে। অতীতে এই হোমগুলির একাংশের পরিকাঠামো এবং পরিচালনা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের কড়া বার্তার পর, প্রশাসনিক স্তরে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হচ্ছে না। জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিক ও অন্যান্য প্রসাসনিক আধিকারিকেরা নিজেরা পরিদর্শন করে হোমগুলির ভেতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।
প্রশাসনের এই বিশেষ নজরদারির আওতায় কয়েকটি বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। হোমে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য বণ্টন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। আবাসিকদের থাকার ঘর, শৌচাগার এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসম্মত কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। নারী ও শিশুদের মানসিক অবসাদ দূর করতে নিয়মিত কাউন্সিলিং-এর ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, “আবাসিকদের নিরাপত্তা ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সরকারি নিয়ম মেনে হোমগুলি চলছে কি না, তা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।” জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা যায় এই পরিদর্শন কেবল একদিনের জন্য নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে চলবে। কোনও হোমে নিয়মের লঙ্ঘন বা গাফিলতি ধরা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হলদিয়া ও তমলুকের হোমগুলি পরিদর্শন করেন জেলাশাসক। তমলুকের নিমতৌড়ি হোম পরিদর্শনের পর তাদের ব্যবস্থা নিয়ে খুশি জেলা প্রশাসন।