বড় মেয়ে লিভ-ইন করেন। তা-ও ভিন ধর্মের যুবকের সঙ্গে। তা মেনে নিতে পারেননি মা-বাবা। পাহাড় ঋণের বোঝাও ছিলও। তা শোধ করা নিয়েও বিবাদ চলছিল। শেষ পর্যন্ত লিভ ইন পার্টনার কেনেথকে সঙ্গে নিয়ে মা-বাবা এবং ছোট বোনকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বড় মেয়ে শ্বেতার বিরুদ্ধে। সোমবার বেঙ্গালুরুর সিগেহল্লির ধামানিক লেআউট এলাকার সাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টের এই ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সুপ্রিয়া এবং কেনেথের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাই অ্যাপার্টমেন্টে স্ত্রী মুথুলক্ষ্মী (৪৮) আর ছোট মেয়ে সুপ্রিয়াকে (২০) নিয়ে থাকতেন সোমসুন্দর (৫৫)। কেনেথের সঙ্গে বড় মেয়ের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তাঁরা। এই নিয়ে মাঝেমধ্যেই অশান্তি হতো। সম্প্রতি প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন শ্বেতা আর কেনেথ। তা শোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছিলেন তাঁরা। এই বিপুল ঋণ নিয়েও মা-বাবার সঙ্গে প্রায়ই তাঁদের অশান্তি হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গত শনিবার গ্রামের বাড়ি থেকে সুপ্রিয়ায় ফ্ল্যাটে ঘুরতে যান তাঁর মা-বাবা। তাঁদের সঙ্গে ছোট মেয়ে সুপ্রিয়াও ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ মুথুলক্ষ্মী ও সোমসুন্দরের সঙ্গে তুমুল বচসা হয় শ্বেতার। তা হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ, সেই সময়ে আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে মা-বাবার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন শ্বেতা আর কেনেথ। বাবা-মাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন তাঁরা। মা-বাবাকে বাঁচাতে ছুটে যান বোন সুপ্রিয়া। তিনিও রেহাই পাননি। অভিযোগ, তাঁকেও কোপান তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়ার। গুরুতর জখম অবস্থায় সোমসুন্দরকে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরও মৃত্যু হয়। শ্বেতা ও কেনেথের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে কেআর পুরম থানার পুলিশ। গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী বীর বাহাদুর জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় হাঁটতে গিয়েছিলেন শ্বেতা। তিনি বাড়ি ফিরে আসার পরেই এই ঘটনা ঘটে বলে অনুমান।
ঘটনার পর থেকে শ্বেতা ও কেনেথ পলাতক। হোয়াইটফিল্ড বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সাইদুলু আদাভাথ জানিয়েছেন, মৃতরা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। সেখানে বচসার জেরে পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। তবে খুনের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। পুলিশের দাবি, শ্বেতা ও কেনেথকে গ্রেপ্তার করলেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সামনে আসবে।