• নভেম্বরে বিয়ে, তার আগেই সব পুড়ে ছাই! আগুন কেড়ে নিল কলকাতার অনামিকা আর লখনৌয়ের নীলেশের স্বপ্ন
    এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
  • নভেম্বরে চার হাত এক হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছিল দুই পরিবার। কিন্তু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল সব। সোমবার লখনৌয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে কলকাতার অনামিকা সামন্ত (২৭) এবং তাঁর হবু স্বামী নীলেশ কুমারের (২৮)। নিয়তির নির্মম পরিহাস। ছাদনাতলার বদলে তাঁদের শেষযাত্রার আয়োজন করতে হচ্ছে দুই পরিবারকে।

    গত সপ্তাহেই কলকাতা থেকে লখনউ গিয়েছিলেন অনামিকার বাবা-মা। নীলেশের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। অনেকটা পাকা দেখার মতো। আগামী সপ্তাহে নীলেশের মা-বাবার কলকাতায় আসার কথা ছিল। বিয়ের প্রস্তুতির শেষ পর্ব আর ফেলে রাখতে চাইছিলেন না তাঁরা। নীলেশের দাদা অভিষেক কুমারের কথায়, ‘অনামিকার মা-বাবা আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। আগামী সপ্তাহে আমরা যেতাম। বিয়ে নিয়ে অনেক কিছু ভেবে রেখেছিলাম আমরা।’

    দু’জনেই শিল্পী ছিলেন। অ্যানিমেশনের আঁকিবুকিতে জীবন্ত করে তুলতেন একের পর এক চরিত্র। লখনৌয়ের ‘হেড হপার স্টুডিওস’-এ কাজ করতেন তাঁরা। সোমবার ওই বিল্ডিংয়েই আগুন লেগে যায়। নীচে একটি পেট শপ ছিল। দোতলায় স্টুডিও। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রথমে গ্রাউন্ড ফ্লোরের পেট শপেই আগুন লাগে। সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিল্ডিংয়ে।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রেই অনামিকার সঙ্গে নীলেশের আলাপ। প্রথমে বন্ধুত্ব। সেখান থেকে প্রেম। প্রায় তিন বছর একসঙ্গে কাজ করছিলেন তাঁরা। নিজেরাই সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলেন বাড়ির লোককে। তাঁরাই বিয়ে ঠিক করেন। সেই জন্যই অনামিকার মা-বাবা লখনৌতে গিয়েছিলেন। নতুন স্বপ্নের শুরু হচ্ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সব ওলটপালট হয়ে গেল।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সোমবার অগ্নিকাণ্ডের সময়ে স্টুডিওতেই ছিলেন নীলেশ আর অনামিকা। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনামিকার বাবা বিশ্বনাথ সামন্ত একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর মা সুলেখা গৃহবধূ। তাঁদের এক ছেলেও রয়েছে। তবে অনামিকাই বড়। যে সম্পর্ককে ঘিরে দুই পরিবার নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিল, তা মুহূর্তে ছাই হয়ে গেল ভয়াবহ আগুনে। দুই পরিবারের কাছে এখন শুধু রয়ে গিয়েছে কিছু স্মৃতি, আর অপূরণীয় শূন্যতা।

  • Link to this news (এই সময়)