• ‘নিজের বুথে হেরেও জননেত্রী?’ শুভেন্দুর মমতা-কটাক্ষ শুনে ওয়াকআউট ঋতব্রতদের, বসে রইল ‘কালীঘাট তৃণমূল’
    এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
  • ভবানীপুর ছিল তাঁর ‘বড়বোন’। ২০২১ সালে ‘মেজবোন’ নন্দীগ্রামে হেরে সেই ‘বড়বোন’-এর কাছে ফিরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জিতেছিলেন ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে। পাঁচ বছর পর সেই ‘বড়বোন’ই তাঁকে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হারিয়ে দিয়েছে। তা নিয়ে এ বার ‘প্রাক্তন’কে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরে মমতারই প্রতিন্দ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা নিজের বুথে হেরেছেন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের বুথে হারলেও জননেত্রী মানতে হবে?’

    মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের বাজেট-ভাষণের উপর বক্তৃতা করার সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে মমতা-কটাক্ষ শুনে ওয়াকআউট করলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ঘটনাচক্রে, সোমবার এই ঋতব্রত-গোষ্ঠীই মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ‘দখল’ নিতে কার্যত শেষ সিঁড়িতে পা রেখেছে। দলীয় স্বত্ব দাবি করার আগে দলের নবগঠিত কমিটি থেকে ঋতব্রতরা বাদ দিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং মমতাকেই! বিদ্রোহীদের কমিটিতে রাখা হয়নি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তার পরেই ঋতব্রত-গোষ্ঠীকে ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণের সুর চড়াতে শুরু করেছেন মমতাপন্থী কুণাল ঘোষেরা। কিন্তু মঙ্গলবার শুভেন্দুর মমতাকে আক্রমণের পরেও সেই কুণাল এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা বসে রইলেন নিজের নিজের আসনে। বঙ্গরাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দৃশ্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ।

    মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতার কিছু মন্তব্যের উল্লেখ করে তাঁকে বিধানসভায় আক্রমণ করছিলেন শুভেন্দু। বলেন, ‘বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে বলেছিলেন, ওরা তো শুক্রবার একটুআধটু করবে, আমি কী করতে পারি! মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেছিলেন উনি। বাংলার মানুষ রায় দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারে বসে রামমন্দিরের বিরুদ্ধে মিছিল করেছিলেন। বাংলা উত্তর দিয়েছে। বিধানসভায় এই মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে উনি বলেছিলেন, পুরসভায় হেরেছ! আজ আপনি (মমতা) বাড়িতে বসে আমার কথা শুনছেন। আমি আপনাকে বলেছিলাম, ২৬-এ উত্তর দেব। জনগণ উত্তর দিয়েছে।’

    শুভেন্দুর এই আক্রমণের তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয় বিধানসভায়। এর পরেই ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়ে ওয়াকআউট করার সিদ্ধান্ত নেন ঋতব্রতর শিবিরের তৃণমূল বিধায়কেরা। যা দেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুনতে খারাপ লাগছে তো? আমরা যখন বিরোধী ছিলাম, আপনারা যে আচরণ করেছেন... মানুষ আপনাদের শিক্ষা দিয়েছে। আপনারা মানুষের রায় মেনে নিন।’ তার পরেই শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘কালীঘাট তৃণমূল থেকে গেল। নিজেদের আসল বলে দাবি করা তৃণমূল পালিয়ে গেল।’

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরে কুণালও উঠে দাঁড়িয়ে কিছু বলার অনুমতি চান। উল্টো দিক দিয়ে শুভেন্দু তাঁকে বলতেও বলেন। এর পরেই বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যা পদক্ষেপ করছেন, তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। একটু আগে আপনি বললেন, নারী নির্যাতনে অভিযুক্তরা কেউ ছাড় পাবে না। তা হলে ঋতব্রতের বিরুদ্ধেও তো অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করুন।’ কুণালের মুুখে এই কথা শুনে হাসতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি জবাবে বলেন, ‘কী অবস্থা ভাবুন! মাত্র দেড় মাসে এই অবস্থা। ২০ জন এমপি নেই। ৮০ জনের মধ্যে ৬২ জন বিধায়ক নেই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে দিন। ব্যবস্থা নেব। ভারতে কোনও দলের অবস্থা এ রকম হয়নি। এই করুণ পরিনতি দম্ভ, অহংকার, দুর্নীতি আর পরিবারবাদের জন্য। আপনারা আর উঠে দাঁড়াতে পারবেন না।’

  • Link to this news (এই সময়)