যাঁরা চুরি-দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আইন এনে তাঁদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের বাজেট-ভাষণের উপর বক্তৃতা করতে গিয়ে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে দিলেন, সেই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি নিলামেও চড়ানো হবে। সেই সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত তো করবই। যাঁরা ফ্লাইওভারের নীচে রাত কাটান, তাঁদের আমতলা-হরিশ চ্যাটার্জির প্রাসাদে রাখব!’
তৃণমূল জমানায় ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, জলজীবন মিশন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার— সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সেই সমস্ত অভিযোগ তদন্ত-কমিশনে জমা পড়লেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। শ্রীঘরে পাঠানো হবে দোষীদের। সেই সূত্রে পূর্বতন সরকারের আমলে বীরভূমের পাথর খাদান থেকে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ও টেনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘বীরভূমে পাথরে কী করেছে জানেন? আপনাদের হাতে ছিল পার্টি। সব ল্যাম্পপোস্ট ছিলেন। আসল তো যুবরাজ। আপনারা কেউ প্রতিবাদ করেননি। সব মেনে নিয়েছিলেন। আমার বুকে পাটা ছিল, আমি প্রতিবাদ করেছি। এক বছরে বীরভূমের পাথর থেকে রেভিনিউ দিয়েছেন ৬০ কোটি টাকা। আর আমরা ৯ মে শপথ নেওয়ার পরে ১ মাসে রেভিনিউ দিয়েছি ৮৩ কোটি টাকা।’
পাথর খাদানের টাকা ক্যামাক স্ট্রিট (যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস) হয়ে দুবাই গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু। বলেছেন, ‘রেভিনিউয়ের হিসেবট ১০০ কোটি হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি, বাকি ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই! অন-রেকর্ড যা যা ভুল করে গিয়েছেন, প্রাক্তন পিএইচই মন্ত্রী আছেন...পিএইচই-র ঠিকাদার কাকদ্বীপের স্টেট ব্যাঙ্কের শাখা থেকে আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছে, ছেড়ে দেব আমি ? আপনি ভেবেছেন ছেড়ে দেব? ছেড়ে আমি দেব না।’
আগের সরকারের আমলে নারী নির্যাতনের অভিযোগ যাঁদের বিরুদ্ধে উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নারী নির্যাতনে অভিযুক্তদের খুঁজে খুঁজে বার করব। আরজি করের বিচার হবে। অভয়াকে যাতে বিচার পাইয়ে দিই, সেই জন্যই বাংলার মানুষ ভোট দিয়েছেন। তমন্না বিচার পাবে। হাঁসখালির নমঃশূদ্র পরিবার, কামদুনি থেকে কসবা ল’কলেজ— জ়িরো টলারেন্স।’
তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সকলেই চোর নন। কেউ কেউ ভদ্রলোকও রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে যেন কোনও রকম অন্যায়-আচরণ না করা হয়। শুভেন্দু বলেন, কোনও ভদ্রলোকের গায়ে কেউ হাত দেবেন না। শোভনদেবদের মতো কয়েক জন ভদ্ররাজনীতিক আছে। সমর মুখোপাধ্যায়কে দেখলে উঠে দাঁড়াই। সবাইকে এক বন্ধনীতে ফেলবেন না। তবে ফলতার সেই তথাকথিত পুষ্পা, শওকত, শাহজাহান, দিলীপ মণ্ডল, রাজু নস্করদের কেউ বাঁচাতে পারবে না।’