মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া-সহ রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় তীব্র বজ্রপাত, প্রবল বৃষ্টি এবং ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। সতর্ক করা হয়েছিল খোলা মাঠ, জলাশয় ও বিচ্ছিন্ন গাছের তলায় আশ্রয় নিতে। জারি করা হয়েছিল লাল সতর্কতা। আবহাওয়া দপ্তরের সেই বিপর্যয়ে আশঙ্কাই সত্যি হলো। এ দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রাঘাতে অন্তত সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, সংখ্যাটা ১৮ জনের কম নয়।
মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান থেকে একটি যাত্রীবাহী নৌকা মালদার বৈষ্ণবনগর থানার শোভাপুর ফেরি ঘাটে পৌঁছনোর পরে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। যাত্রীরা নৌকা থেকে নেমে ঘাটের একটি খড়ের চালার নীচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে আচমকা বাজ পড়ে। সন্ধ্যা ছটা নাগাদ ঘটা এই ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতেরা হলেন আসাদুল্লাহ শেখ (৮০), আনসার শেখ (৪৫), কচি শেখ (২৫) এবং একরামুল শেখ (৮০)। আহতদের সামশেরগঞ্জ থানা এলাকার অনুপনগর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ছ’জনকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির মধ্যে কাঁচরাপাড়ার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যনগরে মাঠের পাশে একটি গাছের তলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বিবেক সরকার (৩৫)-সহ কয়েকজন যুবক। সেখানে বজ্রপাতে বিবেক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ দিকে এ দিন সকালে উত্তরের জেলা কোচবিহারেও বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়। শীতলকুচির শাটিমারি এলাকায় মাঠ থেকে গোরু আনতে গিয়ে মেনকা বর্মন নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়।
সেই সঙ্গে কোচবিহার ১ ব্লকের সুকটাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মাঠে কাজ করার সময়ে বাজ পড়ে আরমান হোসেন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। এমজেএন মেডিক্যাল কলেজে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
পাশাপাশি নিশিগঞ্জে পিন্টু পাটোয়ারী নামে আরও এক ব্যক্তি বাজার থেকে সাইকেলে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া, মাথাভাঙ্গা ১ ব্লকের গোপালপুর ও বৈরাগীরহাটে বাজ পড়ে চারটি গোরুর মৃত্যু হয়েছে।