• মুহুর্মুহু বজ্রপাতে কোচবিহারে মৃত ২, আহত আরও অনেক
    আজকাল | ২৪ জুন ২০২৬
  • মনিরুল হক, কোচবিহার: সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। থেমে থেমে বৃষ্টি, তার সঙ্গে বিদ্যুতের ঝলকানি। আর সেই ঝলকানিই মঙ্গলবার কোচবিহারের একাধিক প্রান্তে নামিয়ে আনল মৃত্যুর ছায়া। কোথাও মাঠে ধান গাড়তে গিয়ে, কোথাও বৃষ্টির মধ্যে গরু আনতে গিয়ে, আবার কোথাও বাজার থেকে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে ঝলসে গেল জীবন। এক দিনের ব্যবধানে কোচবিহারে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। আহত হয়েছেন আরও অন্তত চার জন। গবাদি পশুরও প্রাণ গিয়েছে। টানা বৃষ্টি আর বজ্রবিদ্যুতের এই দাপটে আতঙ্ক ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে।

    সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সুটকাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ময়নাগুড়ি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার পাঁচজন শ্রমিক মাঠে ধান গাড়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলছিল কাজ। আচমকাই নামে বজ্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে লুটিয়ে পড়েন শ্রমিকেরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আরও তিনজন সেখানে চিকিৎসাধীন। জীবিকার তাগিদে মাঠে নামা মানুষগুলোর পরিবারের উপর যেন এক ঝটকায় নেমে এল অন্ধকার।

    অন্য দিকে, শীতলকুচি ব্লকের শাটিমারি এলাকাতেও বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে মেনকা বর্মন নামে এক মহিলার। বৃষ্টি চলাকালীন মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ই বজ্রের ছোবল। খবর পেয়ে শীতলকুচি থানার পুলিশ পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। 

    একই দিনে মাথাভাঙা-২ ব্লকের নিশিগঞ্জ এলাকায় বজ্রাঘাতে আহত হন পিন্টু পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তি। বাজার থেকে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের কবলে পড়েন তিনি। প্রথমে নিশিগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে এবং পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কোচবিহার মেডিক্যালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

    মানুষের পাশাপাশি ক্ষতি হয়েছে গবাদি পশুরও। মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের গোপালপুর এবং বৈরাগীরহাট এলাকায় বজ্রপাতে চারটি গরুর মৃত্যুর খবর মিলেছে। ফলে আতঙ্কের সঙ্গে কৃষক পরিবারগুলির আর্থিক দুশ্চিন্তাও বেড়েছে।

    আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, উত্তরবঙ্গে আপাতত বৃষ্টি-বজ্রবিদ্যুতের দাপট কমার সম্ভাবনা নেই। প্রশাসনের তরফে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে খারাপ আবহাওয়ায় খোলা মাঠে না যেতে, গাছের নীচে আশ্রয় না নিতে। কিন্তু বর্ষার মরসুমে মাঠই যাঁদের জীবিকা, তাঁদের পক্ষে সেই সতর্কতা মানা সব সময় সম্ভব হয় না। আর সেখানেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে।
  • Link to this news (আজকাল)