বিধানসভায় এসে ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা করলেন জ্যোতিপ্রিয়, শিবির বদল নিয়ে গুঞ্জন
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ জুন ২০২৬
কদিন আগে ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার ‘আসল তৃণমূলে’ কি নাম লেখাতে চলেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক? আজ, মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। আর তখন থেকেই রাজ্য-রাজনীতিতে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের কর্তৃত্ব নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই যখনচরমে, তখন জ্যোতিপ্রিয়র এমন হঠাৎ দেখা করতে আসা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটলে আদি তৃণমূলের মাথাব্যথা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার হঠাৎই জ্যোতিপ্রিয়কে বিধানসভায় দেখার পরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কারণ তিনি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করেন। গত ১৯ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান হাবড়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন বনমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেখানে তিনি জানান, দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। কারণ শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে। আর চিঠি পাঠানোর ঠিক পাঁচদিনের মাথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বালুকে দেখা গেল বিধানসভায়।
অন্যদিকে তৃণমূলের প্রথম দিনের সৈনিক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আজ বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ বিধানসভায় যান রাজ্যের প্রাক্তন এই মন্ত্রী। সেখানে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। জ্যোতিপ্রিয় অবশ্য সাফাই দিয়েছেন, ‘পেনশন সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে বিধানসভায় যেতে হয়েছিল। তারপরই একবার ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা করে এলাম।’ এই কাজ তো যে কোনও সময় করা যায়। আর বিধানসভায় গেলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন কেন? উঠছে প্রশ্ন।
তাছাড়া গত শুক্রবার ‘আদি’ তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য পদ ছেড়ে দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে তিনি জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তারপরই এদিন বিধানসভায় চলে গেলেন। আর সংবাদমাধ্যমের সামনে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘বিধানসভায় তাঁর পরিচিত অনেক বিধায়কের সঙ্গেই দেখা হয়েছে। চন্দ্রনাথ সিনহা, কাজল শেখদের সঙ্গে দেখা হয়। পেনশন সংক্রান্ত কাগজের জন্য এসেছিলাম। মেডিক্যাল বিলে সই করতে এসেছিলাম। ভাববেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে আমি দলে যোগ দিলাম।’ ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা নিয়ে কোনও কথা বলেননি তিনি।