• শুভেন্দু জমানায় অপ্রত্যাশিত DA বৃদ্ধি, নতুন নিয়োগ: উচ্ছ্বসিত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ জুন ২০২৬
  • রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ১৮ শতাংশের উপর আরও ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সুতরাং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মোট মহার্ঘভাতা (ডিএ) হার দাঁড়াল ৩৮ শতাংশ। চলতি বছরের পয়লা অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হবে বলেও বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন থেকে জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, আধা-সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জন্য বাজেটে বিরাট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই ঘোষণার পর নিজেদের মনের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

    এই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। বামফ্রন্ট সরকারের জমানা থেকে ডিএ বকেয়া ছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রের সঙ্গে বড় ব্যবধান দেখা যায় মহার্ঘভাতায়। তার উপর বকেয়াও পুরো মিলছিল না। যার জন্য বিষয়টি নিয়ে মামলা করতে হয় তাঁদের। তাতেই মেলে সাফল্য। কিন্তু ডিএ দেওয়ার আগেই ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয় তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে এই বিশাল অঙ্কের ডিএ দেওয়ার কথা বাজেটে ঘোষণা করে দিল। আর তাতেই বিজেপি সরকারের এমন উদ্যোগে খুশি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তারা বিজেপি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

    এদিকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা দেওয়া এবং পেনশন প্রাপকরাও সমহারে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিয়ারনেস রিলিফ পাবেন বলে ঘোষণা করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। আর তাতেই খুশি হয় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। এই বিষয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক শৈবাল সরকার সংবাদসংস্থা ইউএনআই-কে বলেন, ‘এই বৃদ্ধি আমাদের দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকৃতি পেল। আগের সরকার আমাদের হেনস্থা করেছে। আর এই সরকার আমাদের জন্য চেষ্টা করছে।’

    অন্যদিকে শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। তাতে ৩৩ শতাংশ মহিলা নিয়োগ করা হবে। তার মধ্যে ২০ হাজার পুলিশ বিভাগ, ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে।’ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক শৈবাল সরকারের বক্তব্য, ‘যদিও খুশি কোনও পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যায় না। এই স্বীকৃতি দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এসেছে। রাজ্য সরকার নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের আগে যা তারা দিয়েছিল। আমরা এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন আমাদের যে, বকেয়া মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দেওয়া হবে চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে। আমাদের উচিত তাদের বিশ্বাস করা এবং সময় দেওয়া। এই উদ্যোগ গোটা রাজ্যের অর্থনীতিকে বদলে দেবে। ৬ লাখ শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও গত সরকার নিয়োগ করেনি। এই সরকার সেটা করবে বলেছে।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)