মাদ্রাসার মধ্যেই কিশোরকে লাগাতার যৌন হেনস্তা! প্রকাশ্যে এল নাগপুরের (Nagpur) চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, নির্যাতিত কিশোর ওই মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করত। সেখানে মাঝেমাঝেই আসত এক ব্যক্তি। নির্যাতিত কিশোরের উপর দিনের পর দিন অত্যাচার চালাত সে। আপাতত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই মাদ্রাসায় পড়তে যাওয়া অন্য কিশোরদের উপরেও একইধরনের নির্যাতন হয়ে থাকতে পারে।
নাগপুরের দারুল মুরুল তাজ মাদ্রাসার ওই পড়ুয়ার বয়স ১৪ বছর। দিনতিনেক আগে পুলিশের দ্বারস্থ হয় সে। জানায়, মাদ্রাসায় তার উপর যৌন নির্যাতন চলছে। অভিযোগের তির ২৬ বছর বয়সি অতায় রসুল নামে এক ব্যক্তির দিকে। বিহারের বাসিন্দা অতায় ওই মাদ্রাসায় মাঝে মাঝেই আসত। ওই মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত মৌলানার সঙ্গে রসুলের বেশ বন্ধুত্ব ছিল বলেই জানা গিয়েছে। সেই সূত্রেই মাদ্রাসায় যাতায়াত লেগেই থাকত রসুলের। মাদ্রাসায় গিয়ে একাধিক কিশোরকে যৌন নির্যাতন করেছে সে, এমনটাই অভিযোগ।
নাগপুর পুলিশ ইতিমধ্যেই পকসো আইনে রসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। জানা গিয়েছে, ওই মাদ্রাসায় অন্তত ১০ জন পড়ুয়া রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ওই মাদ্রাসায় এসে পড়াশোনা করে তারা। নির্যাতিত কিশোরের মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে ইতিমধ্যেই। পুলিশের অনুমান, মাদ্রাসার অন্যান্য পড়ুয়ারাও রসুলের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে। আপাতত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নির্যাতিত কিশোরকে বিশেষ কেয়ারে পাঠানো হয়েছে।
গোটা ঘটনায় মুখ খুলেছেন মহারাষ্ট্রের সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারপার্সন প্যারে খান। জানিয়েছেন, “মাদ্রাসায় এমন ঘটনা ঘটছে, এই মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশের হাতে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। আপাতত একজন পড়ুয়ার উপর নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। কিন্তু মাদ্রাসার অন্যান্য পড়ুয়াদের উপরেও এধরনের নির্যাতন হয়ে থাকতে পারে। আমরা পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি, ঘটনার সমস্তদিক যেন খতিয়ে দেখা হয়।” প্রশ্ন উঠছে, দিনের পর দিন এমন ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও কেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি?