সকালেই মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা, সন্ধ্যায় লখনউয়ের ‘জতুগৃহে’ ঝলসে মৃত্যু কলকাতার যুবতীর
প্রতিদিন | ২৪ জুন ২০২৬
লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে কলকাতার এক যুবতীর। মৃতার নাম অনামিকা সামন্ত (৩০)। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও কথা বলেছিলেন মায়ের সঙ্গে। দুপুরেই সব শেষ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার।
কর্মসূত্রে গত তিন বছর ধরে লখনউতে রয়েছেন অনামিকা। সোমবার দুপুরে তিনি উপস্থিত ছিলেন ওই ভবনে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে সেখানেই ঝলসে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন অনামিকার মা সুলেখা সামন্ত। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “প্রতিদিনই আমাদের কথা হত।ব সোমবার সকালেও হয়েছিল। কিন্তু ভাবতে পারিনি সেটাই মেয়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা।” কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে মর্মান্তিক এই ঘটনাটির খবর পেয়েই অনামিকার মা, বাবা বিশ্বনাথ সামন্ত, ভাই আকাশ সামন্ত লখনউ ছুটে যান। তাঁরা আশা করেছিলেন মেয়ে বেঁচে যাবেন। কিন্তু তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি। অনামিকার মা বলেন, “মর্গে শুধু মেয়ের মুখটাই দেখেছিলাম। তা দেখেই তাঁকে শনাক্ত করি। শরীরের বাকি অংশ পুড়ে গিয়েছিল।”
সোমবার দুপুরে লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার ওই কোচিং সেন্টারে আচমকা আগুন লেগে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢাকে গোটা এলাকা। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি শর্ট সার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই দুই সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ৪ জন সরকারি আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভবনের মালিক-সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনুমোদন ছাড়া কী ভাবে ভবনটি চালু ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।