• হড়পা বানের আশঙ্কা বাড়ছে উত্তরে, অতি ভারী বৃষ্টিতে জারি লাল সতর্কতা
    প্রতিদিন | ২৪ জুন ২০২৬
  • উত্তরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি চলছেই। ভুটান থেকে ক্রমশ জল ঢুকছে। তিস্তা, তোর্ষা-সহ একাধিক নদীতে জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ক্রমাগত জল বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেবে। এমনই আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাতে জলে ভেসেছে শিলিগুড়ি ও কোচবিহার শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। হড়পা বানের আশঙ্কায় রাতজাগা নদী সংলগ্ন এলাকার হাজার-হাজার মানুষ। পাহাড়-সমতলে একযোগে ভারী বৃষ্টির জেরে উথাল-পাথাল প্রতিটি পাহাড়ি নদী ও ঝোরা। জলঢাকা ও তিস্তানদী অসংরক্ষিত এলাকায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সেচ দপ্তরের ‘লাল’ সতর্কতা জারি করেছে।

    পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে মাইকে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করার কাজ শুরু হয়েছে। জলঢাকা নদীতে শাবক-সহ আটকে পড়ে একটি হাতি। এদিকে মঙ্গলবার সকালে রংপো ৫ মাইলের রেশি ও রোরথাং এলাকায় ভূমিধসে অবরুদ্ধ হয়েছে রংপো-রোরথাং রোড। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলায় অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১০৫ মিলিমিটার। সিকিমে একটানা অতিভারী বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তার জলস্তর বেড়ে চলেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অসংরক্ষিত এলাকায় নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করায় প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন গ্রাম। ময়নাগুড়ির ধর্মপুর অঞ্চলের ১০৫ নম্বর স্পার এলাকায় তিস্তার জল ঢুকে ভেসেছে ঘরবাড়ি।

    একই বানভাসি দশা চাতরার পাড়, মাস্টার পাড়া, বাসুসুবা, চাপাডাঙার মতো জনপদের। জল বাড়ছে জলঢাকা নদীতেও। নদীর জলস্তর বেড়ে চলায় বন্যপ্রাণও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে নাগরাকাটা ব্লকের বামনডাঙ্গা চা বাগানের ডায়না লাইনেও হাতির দল যেতে দখা গিয়েছে। রাতভর বৃষ্টিতে জলবন্দি হয়েছে শিলিগুড়ি শহরের কয়েকটি ওয়ার্ড। চম্পাসারি এলাকা নদীর চেহারা নিয়েছে। জলে ভেসেছে প্রধান নগর, স্বামীজী মোড়। একই জলছবি ধরা দিয়েছে কোচবিহার শহরে। আলিপুরদুয়ারের বারোবিশা এলাকায় নদীর জল ঢুকে ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

    ফুলেফেঁপে উঠেছে নাগরাকাটার সুখানি ঝোরা। শালকুমারহাটে শিসামারা নদীর তীরের বাসিন্দাদের পুলিশের তরফে সতর্ক করা হয়েছে। হাঁটু সমান জলে ভাসছে দেওয়ানগঞ্জ বাজার, পারমেখলিগঞ্জ রাস্তা। অন্যদিকে ভুটান পাহাড়েও অবিরাম বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সের তোর্সা, রায়ডাক, সংকোশ নদী ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে। যদিও সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, “এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি নদীতে নজরদারি চলছে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)