একদিন আগেই তৃণমূলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অপসারণ’ করার যাবতীয় পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল। এবার তৃণমূলের তহবিলের দিকে নজর তাঁদের। ওই বিপুল সংখ্যক টাকার ‘দখল’ পেতে মঙ্গলবারই একযোগে জোড়া চিঠি লিখেছে ‘আসল তৃণমূল’। একটি চিঠি নিয়ে দলের নেতারা নিজেরাই নির্বাচন কমিশনে গিয়েছেন। আরেকটি চিঠি যাবে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে। তাঁদের উদ্দেশ্য, দলের সব অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
সোমবার পাঁচতারা হোটেলে তৃণমূলের যে তথাকথিত বিশেষ অধিবেশন হয়েছে, তাতে আখরুজ্জামানকে দলের কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে ‘প্রাক্তন’ কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসও ওই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের দাবি, অরূপ এবং আখরুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনার পরই তৃণমূলের তহবিল সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও ব্যাঙ্ক কর্তাদের চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই আইনি খসড়া তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। নবনির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামানকে সামনে রেখে মঙ্গলবারই এইচডিএফসি ব্যাঙ্ককে চিঠি দেওয়া হতে পারে।
সোমবার তৃণমূলের যে তথাকথিত বিশেষ অধিবেশন করেছে তাতে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। তিনিই আবার স্পিকার স্বীকৃত বিধানসভার মুখ্য সচেতকও। সূত্রের খবর, দলের তহবিলের কার্যকলাপ নিয়ে ব্যাঙ্ক ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি তিনিই দেবেন। শোনা যাচ্ছে, এর নেপথ্যেও দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের মস্তিষ্ক রয়েছে। তিনিই প্রথম দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে চিঠিটি দিয়েছিলেন ব্যাঙ্কে। তবে ঋতব্রতরা ব্যাঙ্কে চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না। এদিন বিকালে সশরীরে সেই চিঠি জমা দিতে কমিশনের কলকাতা অফিসে যান ‘আসল তৃণমূলে’র নেতারা।
বস্তুত আসল তৃণমূল কারা-এই নিয়ে রাজ্যে বেনজির টানাপড়েনের পরিস্থিতি চলছে। ঋতব্রতরা তথাকথিত বিশেষ অধিবেশন থেকে নিজেদের আসল তৃণমূল এবং অরূপ রায়কে দলের চেয়ারপার্সন দাবি করার পর রাতারাতি কালীঘাট তৃণমূল থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এবার পালটা চিঠি চালাচালি শুরু করল ‘আসল’ শিবির।