হবু স্বামীর সঙ্গে লোনাভালার লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে তাঁকে পাহাড় থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ বাগদত্তার বিরুদ্ধে। পুনের এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ দিকে ২৬ বছর বয়সি কেতন আগরওয়ালের এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যু এবং তার পরে তদন্তে যা বেরিয়ে এসেছে, তা জেনে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার। অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন নিহত যুবকের বাবা ও মা।
ছেলের এই মর্মান্তিক পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেতনের বাবা। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে কেতন ও সিয়ার বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। এমনকী ৬ জুন তাঁদের বিদেশে (বালি) যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে কেতনের পাসপোর্ট চুরি হয়ে যাওয়ায় তাঁকে ফিরে আসতে হয়।
সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্ষুব্ধ পিতা বলেন, ‘যদি ও (সিয়া) বিয়ে করতে না চাইত, তবে সহজেই না করে দিতে পারত। আমরা তৎক্ষণাৎ বিয়ে বাতিল করে দিতাম। এত বড় পদক্ষেপের কী দরকার ছিল? এরা কতটা নিষ্ঠুর মানসিকতার যে একটা ২৬ বছরের ছেলেকে খুন করে ফেলল!’ তিনি প্রশাসনের কাছে এই মামলার ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ (Fast-track) বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।
কেতনের মায়ের গলাতেও এখন শুধুই ক্ষোভ আর হতাশার সুর। তিনি সিয়ার বিরুদ্ধে চরম বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করেছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আর নেই। সিয়া আর ওর প্রেমিকই এর জন্য পুরোপুরি দায়ী। মেয়েটা আমাদের সঙ্গে দিনের পর দিন ছলনা করেছে।’
কেতনের মা আরও জানান, বিয়ের আগে একাধিকবার সিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। একসঙ্গে কেনাকাটা এবং নৈশভোজও করেছেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে মেয়েটির মনে এই ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড অর্থাৎ, ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রথমে সিয়া পুলিশকে জানিয়েছিল, পা পিছলে পড়ে গিয়েছেন কেতন। কিন্তু পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট সন্দীপ সিং গিল জানান, কেতন একজন অত্যন্ত দক্ষ ট্রেকার ছিলেন। তাই পা পিছলে পড়ে যাওয়ার তত্ত্ব নিয়ে পুলিশের মনে প্রথম থেকেই প্রশ্ন ছিল। কেতনের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই কেতনকে পাহাড় থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে। জেরার মুখে অভিযুক্তরা খুনের কথা স্বীকার করেছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। আপাতত তাদের হেফাজতে নিয়ে পরবর্তী তদন্ত চালানো হচ্ছে।