এই সময়: রাজ্যে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১১ জনের। এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধেয় ধুলিয়ান–শোভাপুর ফেরিঘাটে বজ্রপাতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম কমপক্ষে ১৫ জন। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতরা হলেন, মালদার বৈষ্ণবনগর থানার পারদেওনাপুরের আসাদুল্লাহ শেখ (৮০), আনসার শেখ (৪৫) ও কচি শেখ (২৫) এবং সোরাপুরের একরামুল শেখ (৮০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ফেরিঘাট থেকে মালদার বৈষ্ণবনগর থানার শোভাপুর ফেরিঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় যাত্রিবাহী একটি নৌকো। প্রায় ২৫–৩০ জন যাত্রী নিয়ে ভাগীরথী পেরিয়ে শোভাপুর ঘাটে পৌঁছনোর পরে নৌকা থেকে যাত্রীরা নেমেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে তুমুল ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীরা নৌকো থেকে নেমে ফেরিঘাটের খড়ের চালার নীচে আশ্রয় নেন। সেই সময়ে আচমকা বাজ পড়ে।
আহতদের অনেককেই সামশেরগঞ্জ থানার অনুপনগর গ্রামীণ হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়। তার মধ্যে আশঙ্কাজনক ছ’জনকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ‘রেফার’ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হতেই মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন একাধিক নৌকাযাত্রী।
বজ্রাঘাতে আহতদের আর্ত চিৎকার ও মৃতদের আত্মীয়দের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকা। অন্য দিকে, এ দিন সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ বৈষ্ণবনগর থানার জৈনপুর এলাকায় পাটের জমিতে কাজ করছিলেন দুই ভাই সালেক মিঁয়া (৩৫) এবং জাহাঙ্গীর মিঁয়া (২৯)। আচমকা ঝড় বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তাঁদের।
কোচবিহারের বাজ পড়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। শীতলকুচি ব্লকের সাটিমারি এলাকায় গোরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান মেনকা বর্মন (৫৯)। জেলারই সুটকাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে চাষের জমিতে কাজ করার সময় বাজ পড়ে মারা যান আরমান হোসেন (২০)।
পুরুলিয়াতেও এক মহিলা ও এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে বাজ পড়ে। মৃতরা হলেন জয়পুর থানার কুসুমটিগরি ও নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা কেশব মাহাতো (৪৮) ও প্রতিমা মাহাতো (৫৪)। এছাড়া জেলার চার জায়গায় জখম হয়েছেন আরও আট জন।
বাড়ির কাছে খোলা মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময়ে বাজ পড়ে কাঁচরাপাড়ায় মৃত্যু হয়েছে বিবেকানন্দ সরকার (৩৮) নামে এক যুবকের।