• হাইকোর্টের রায়ে ক্ষমতায় ফিরছে পুরুলিয়ার ভেঙে দেওয়া পুরবোর্ড
    এই সময় | ২৪ জুন ২০২৬
  • এই সময়, পুরুলিয়া: বিধি বহির্ভূত ভাবে পুরুলিয়া পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের সরকারি নির্দেশ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী এই রায় দেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, আইন মেনে পুরসভা ভাঙা হয়নি। তাই অবিলম্বে (ইমিডিয়েট এফেক্ট) এই নির্দেশ কার্যকর করে পুরবোর্ডকে আগের মতোই কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৫–এর ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রাজ্য সরকার ভেঙে দিয়েছিল পুরুলিয়া পুরবোর্ড। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দু’টি পৃথক রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন কাউন্সিলার রবিশঙ্কর দাস এবং তৎকালীন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি। পরে মামলা দু’টি একত্রিত হয়। মামলার প্রথম আবেদনকারী, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রবিশঙ্কর দাস বলেন, ‘নির্বাচিত পুরসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমি তৃণমূলের কাউন্সিলার হলেও মেনে নিতে পারিনি। চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ায় আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে আমি কংগ্রেসে যোগ দিই।’

    রবিশঙ্করের আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘নাগরিক পরিষেবার প্রশ্নে কয়েকটি বিষয় সামনে এনে পুরুলিয়া পুরসভা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ— এই অভিযোগে প্রথমে শো-কজ় করা হয়। পুরসভা সেই শো-কজ়ের জবাব দিলেও ২০২৫–এর ১৬ ডিসেম্বর পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। এ দিন আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আইন মেনে পুরসভা ভাঙা হয়নি। তাই প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।’

    বোর্ড ভাঙার নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করেছেন তৎকালীন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি। তাঁর বক্তব্য, ‘২০২৪–এর লোকসভা ভোটে পুরুলিয়া শহরে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়। তার পরে সে বছরের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, যে সব শহরে ভোটের ফল খারাপ হয়েছে সেখানকার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে। তার পরে নাগরিকদের পরিষেবা না–মেলার বিষয়টিকে সামনে এনে বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। আসলে বোর্ড ভাঙার সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিক। অবশেষে এই আইনি লড়াইয়ে আমাদের জয় এসেছে।’

    আদালতের রায়ে যে বোর্ড ক্ষমতায় ফিরছে, তা মূলত তৃণমূলের নির্বাচিত বোর্ড হলেও বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। দলত্যাগী ও বহিষ্কৃত কাউন্সিলারদের উপস্থিতিতে এই বোর্ড কতটা স্বাধীন ভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নবেন্দু স্পষ্ট বললেন, ‘বোর্ড ভাঙার পর থেকেই আমাদের সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এ বার আমরা শহরের উন্নয়নে একইসঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে চাই। বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই কাজ করতে চাই।’ অন্য দিকে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিভাসরঞ্জন দাস এটিকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমরা পুরুলিয়ার মানুষের জন্য কাজ করব।’

  • Link to this news (এই সময়)