এই সময়, বর্ধমান ও বাঁকুড়া: পূর্ব বর্ধমানের জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার (ডিএলএলআর) দপ্তরের আধিকারিকরা বন্ধ করতে চাইছেন অবৈধ বালিঘাট। কিন্তু বালি মাফিয়ারা তাদের দেড় দশকের সাম্রাজ্য ছাড়তে রাজি নয়। তারা এখন বিভিন্ন নদ–নদীর ‘নো-ম্যান্স ল্যান্ড’ ব্যবহার করছে।
ডিএলএলআর দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘দুটো থানার সীমানার নো-ম্যানস ল্যান্ড ওদের টার্গেট। কারণ, ওরা জানে, কাদের এলাকা, তা নিয়ে দুই থানার টানাপড়েনের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হয়ে যাবে। তবে আমরা সেই পরিকল্পনাতেও বালি ঢেলে দিচ্ছি।’
সূত্রের খবর, রায়না থানা ও বর্ধমান থানার এমনই একটি নো–ম্যান্স ল্যান্ড এলাকা বেচারহাট মৌজা। সেখানে কয়েক দিন ধরেই দামোদর থেকে অবৈধ ভাবে বালি তোলা হচ্ছিল। সোমবার রাতে তা জেনে মঙ্গলবার সকালেই ওই মৌজার বামুনিয়া এলাকায় বর্ধমান থানার পুলিশকে নিয়ে অভিযান চালান ডিএলএলআর দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁদের গাড়ি দেখেই বালি তোলার কাজে যুক্ত লোকজন ও অবৈধ বালিঘাটের মালিকরা সবাই পালিয়ে যান দামোদর পেরিয়ে। আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে কাউকে না পেয়ে দু’টি জেসিবি মেশিন বাজেয়াপ্ত করে বর্ধমান থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন।
দপ্তরের এক আধিকারিক এ দিন বলেন, ‘এই জেসিবি মেশিনগুলি মুলত ভাড়ায় নেওয়া হয়। যে দু’টি জেসিবি মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেগুলি হেভি কোয়ালিটির, দাম প্রায় দু’কোটি টাকা। মেশিনের মালিকরা তো এগুলি ফেলে রাখবেন না। তাঁরা নিজেদের মেশিন ছাড়ানোর জন্য পুলিশের কাছে বা আমাদের কাছে আসবেন। তখনই কারা এই মেশিন ভাড়া নিয়েছিল, তা জানা যাবে। তাদের বিরুদ্ধে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালিঘাটের কারবার আর চালানো যাবে না।’
বালির অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশ–প্রশাসনের অভিযান চলছে বাঁকুড়া জেলাতেও। মঙ্গলবার জেলার ইন্দাস থানা এলাকার রোল গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় বালি বোঝাই তিনটি ট্র্যাক্টর আটক করে পুলিশ, যেগুলির চালকদের কাছে বালি নিয়ে যাওয়ার বৈধ চালান ছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ট্র্যাক্টর তিনটির চালক অজিত ঘাঁটি, নয়ন সি এবং রমেশ মাঝিকে। এ দিন তাঁদের বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক প্রত্যেককে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সবার বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের বীজখাড়া গ্রামে। খণ্ডঘোষ থেকেই অবৈধ ভাবে বালি নিয়ে তাঁরা ইন্দাসের দিকে যাচ্ছিলেন।