ফ্রান্সের বার্ষিক সঙ্গীত উৎসব হয়ে উঠল আতঙ্কের। দেশ জুড়েই হয় বিশৃঙ্খলা। হামলার হাত থেকে বাদ যান নি মহিলারাও। একাধিক মহিলাকে ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ। আরও কয়েকজনকে সিরিঞ্জ দিয়ে আঘাত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ২৪৩ জনকে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
প্রতি বছর ২১ জুন ফ্রান্সে আয়োজিত হয় ফেত দ্য লা মিউজ়িক (Fte de la Musique)। এটিই ফ্রান্সের সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় মিউজ়িক ফেস্টিভ্যাল। ১৯৮২ সাল থেকে প্রতি বছর ২১ জুন এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে পুরো ফ্রান্স মেতে ওঠে ওপেন কনসার্ট, স্ট্রিট মিউজ়িক এবং আনন্দে। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে ওই দিনে দেশ জুড়েই হয় বিশৃঙ্খলা।
ফ্রান্সে অন্যতম বৃহত্তম এই গণ-উৎসবের সময়ে ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, রাস্তায় বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি অন্তত দু’জন মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও কয়েকজনকে ছুরি এবং সিরিঞ্জ দিয়ে আঘাত করার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা গিয়েছে।
এই উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটকও। সেই মিউজ়িক ফেস্টিভ্যাল চলার সময়েই প্যারিস-সহ বিভিন্ন শহরে হিংসার একাধিক গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগগুলির মধ্যে অন্যতম হলো, ‘নিডল স্পাইকিং’ (needle spiking)। জনাকীর্ণ এলাকায় মহিলারা হঠাৎ সিরিঞ্জের খোঁচা অনুভব করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের কয়েক জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও হয়। তাঁদের মধ্যে এমন এক মহিলা আছেন যিনি ‘বুলেভার্ড দ্য লা ম্যাডেলিন’ (Boulevard de la Madeleine)-এর খোঁচা খাওয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁর শরীরে কোনও পদার্থ শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছে কি না তা জানার জন্য পরীক্ষা এবং তদন্তও চলছে।
এর পাশাপাশি, অনুষ্ঠান চলাকালীন যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে।
এর পরেই কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নামানো হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মীকে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সারা রাত ধরে চলা বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে গিয়ে ২৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । পুরো ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।