মৌসুমি বৃষ্টির জেরে ফের বিপর্যস্ত দেশের বাণিজ্যনগরী মুম্বই। তিন দিন একটানা বৃষ্টিতে জল জমতে শুরু করতেই ২০০৫-এর আতঙ্ক ফিরছে আমচি মুম্বইয়ে। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ দিকে আবহাওয়া দপ্তর (IMD) মুম্বই ও সংলগ্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে কল্যাণ, ডোম্বিভলি, কারজাত এবং নেরাল-এ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ২৩ জুন সকাল ৮টা থেকে ২৪ জুন রাত ২টোর মধ্যে শহরে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৭৮ মিমি, পূর্ব শহরতলিতে ৮৭ মিমি এবং পশ্চিম শহরতলিতে ১১৩ মিমি।
একটানা বর্ষণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শহরের নীচু এলাকাগুলিতে। ব্যাপক প্রভাব পড়েছে যান চলাচলেও। জল জমে যাওয়ায় আন্ধেরির গুরুত্বপূর্ণ আন্ডারপাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়। ফলে বহু যানবাহনকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে মুম্বইয়ের একাধিক এলাকায় লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। তুরভে এবং কোপার খায়রানে স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইনের তলার মাটি ক্ষয়ের কারণে আপ এবং ডাউন উভয় লাইনই যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ট্রান্স-হারবার লাইনে লোকাল ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
শুধু মুম্বই নয়, থানে জেলাতেও জারি করা হয়েছে সতর্কতা। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মুম্বই, থানে, রায়গড়, পালঘর এবং সিন্ধুদুর্গ জুড়ে তিন ঘণ্টার জন্য একটি কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের জল জমা এলাকা এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির জেরে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় জল জমেছে। সকাল থেকেই কর্মস্থলে পৌঁছতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে মুম্বইবাসীকে। স্থানীয় প্রশাসন জল নিষ্কাশনের কাজ শুরু করলেও টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বর্ষার সক্রিয় অবস্থান বজায় থাকলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে নাগরিকদের নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।