পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী। ঘাঁটি গেড়েছেন লন্ডনে। এখনও দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি তাঁকে। এর মধ্যেই অন্য এক মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন তিনি। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে অবিলম্বে ১০.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার শোধ করতে নীরব মোদীকে নির্দেশ দিয়েছে লন্ডনের আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। দুবাইয়ের এক সংস্থাকে ঋণ দিয়েছিল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। তার পরের বছরে অর্থাৎ ২০১৩ সালের ৩ অগস্ট সেই ঋণের জন্য ব্যক্তিগত গ্যারান্টার হন নীরব মোদী। এত পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। গোলমাল শুরু পাঁচ বছর পরে।
২০১৮-য় পিএনবি জালিয়াতি-কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই ঋণের টাকা ফেরত চেয়ে দুবাইয়ের ওই সংস্থা এবং নীরব মোদীকে একযোগে নোটিস পাঠায় ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। আদালতের নথি অনুযায়ী, সেই নোটিসের কোনও জবাব দেননি নীরব। ২০২৪-এর মার্চে আদালত ‘সামারি জাজমেন্ট’ দেয়। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার দাবিকে বৈধ বলে মেনে নেওয়ার পাশাপাশি মূল ঋণের ৪.১ মিলিয়ন ডলার এবং সুদ আদায়ের পক্ষে রায় দেন বিচারক। পরে ২০২৫-এর অক্টোবরে নীরবকে টাকা মেটানোর নোটিস পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার লন্ডন সার্কিট কমার্শিয়াল কোর্টের বিচারপতি সাইমন টিঙ্কলার জানান, পিএনবি কেলেঙ্কারির জেরে দুবাইয়ের ওই সংস্থার ব্যবসা যে মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছিল, তা স্পষ্ট। ফলে নীরব মোদীর দেওয়া গ্যারান্টির আর্থিক মূল্যও অনেকটাই কমে গিয়েছিল। আদালতে নীরব মোদীর পাঠানো একটি ই-মেলও পেশ করা হয়। ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির ওই ইমেলে তিনি লিখেছিলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চা এবং তদন্তের জেরে দুবাইয়ের ওই সংস্থা ব্যবসা চালানোর অবস্থায় নেই। ফলে ব্যাঙ্কগুলির কাছে বকেয়া শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
নীরব মোদী অবশ্য দাবি করেছিলেন, ২০১৮ এবং ২০২৫ সালের নোটিস তিনি পাননি। কিন্তু আদালত সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, দুই ক্ষেত্রেই নোটিস যথাযথ ভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের নোটিস তাঁর কারাগারের ঠিকানাতেও পাঠানো হয়েছিল। এর পরেই বিচারপতি সাইমন টিঙ্কলার বলেন, ‘ব্যক্তিগত গ্যারান্টি অনুযায়ী নীরব মোদীকে ৪.১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৯ কোটি টাকা) মূল ঋণ শোধ করতে হবে। এর সঙ্গে নির্ধারিত হারে সুদও যোগ হবে।’ সুদ আর আসল মিলিয়ে তাঁকে ১০.৭ মিলিয়ন ডলার শোধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।