এই সময়, বর্ধমান: রেলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে ১৮ দিনের এক সদ্যোজাত শিশু চুরির ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্বামী-স্ত্রী মিলে এই শিশু পাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। ধৃতদের নাম তপিকা বিবি এবং তার স্বামী নিলু শেখ। পুলিশ ইতিমধ্যেই অপহৃত শিশুটিকে হাওড়ার মালিপাঁচঘড়া এলাকা থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলির ভদ্রেশ্বর থানার জগদ্ধাত্রীপল্লির বাসিন্দা শম্ভু দেবনাথ গত চার বছর ধরে পরিবার নিয়ে বর্ধমান থানার দুবরাজদিঘি শোলাপুকুর এলাকার রেলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে থাকেন। ১৮ দিনের এক পুত্রসন্তান–সহ দেবনাথ দম্পতির পাঁচ সন্তান। ১৮ জুন রাতে সদ্যোজাতকে পাশে নিয়েই ঘুমাচ্ছিলেন মা। গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন, পাশে শিশুটি নেই। উধাও তাঁর মোবাইলও। রাতেই বর্ধমান থানার দ্বারস্থ হয় পরিবারটি।
অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে বর্ধমান থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক সন্দেহভাজন মহিলাকে চিহ্নিত করা হয়। এর পরে ১৯ জুন দুপুরে স্থানীয় এলাকা থেকে তপিকা বিবি নামে ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, স্বামী নিলু শেখের মাধ্যমে শিশুটিকে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। তপিকাকে সঙ্গে নিয়েই হাওড়ার মালি পাঁচঘড়া এলাকার গঙ্গাধর ভট্টাচার্য লেনের একটি বাড়ি থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ দিকে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল নিলু। পরে গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায়, নীল গেঞ্জি পরে মোটরবাইকে চেপে বর্ধমান শহরে এসেছে সে। কালবিলম্ব না করে পুলিশ তার পিছু ধাওয়া করে। কার্জন গেটের কাছে পুলিশ তাকে ধরে ফেললে সে বাইক ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। শেষপর্যন্ত জেলাশাসকের অফিসের পাশের একটি গলি থেকে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারির পরে জানা যায়, নিলুকে কিছুদিন ধরে বর্ধমান উত্তর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলীয় পতাকা হাতে দেখা গিয়েছিল। এই বিষয়ে সঞ্জয় দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধৃতের ছবি দেখে বলেন, ‘এই ব্যক্তিকে আমি চিনি না। এই ছবিটি সাফাই অভিযান চলাকালীন। তখন অনেকেই এসেছিলেন।’