আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক চিহ্ন থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি, মিড-ডে মিল এবং বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন- একাধিক ইস্যুতে ফের তৃণমূলকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন নিয়ে খোঁচা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, "এখন তো ঘাস আর জোড়াফুল আলাদা হয়ে গিয়েছে। এর পর যদি আবার ভাগ হয়, তবে জোড়াফুলের দুই ফুলও আলাদা হয়ে যাবে।" তাঁর পরামর্শ, তৃণমূলের এবার নাম বদলে অন্য কিছু ভাবা উচিত, অথবা সরাসরি কংগ্রেসের লোগো ব্যবহার করা দরকার।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ইতিহাস সাক্ষী যে কংগ্রেস থেকে যাঁরা বেরিয়ে আসেন, তাঁদের অনেককেই একদিন আবার কংগ্রেসে ফিরে যেতে হয়। তৃণমূলেরও এখন সেই পথেই হাঁটা উচিত।
ডিজে মন্তব্য মামলায় আগামী ৩০ জুন অভিষেক ব্যানার্জির ভয়েস স্যাম্পেল বা কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করবে সিআইডি। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার সাফ কথা, "সবাই তো চোখের সামনে লাইভ দেখেছে। এখন ভয়েস মিলিয়ে আর কী হবে?" ডায়মন্ড হারবারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানকার মানুষের ওপর যেভাবে ক্ষমতার দাপট দেখানো হয়েছে, তার ফলেই ফলতায় জামানত জব্দ হয়েছে। এই ধরনের মানসিকতার মানুষকে রাজনীতি ও সমাজ থেকে দূরে রাখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মমতা ব্যানার্জির ভাইয়ের 'তৃণমূলে কোনওদিন দাম পাননি'- এই ক্ষোভকে উড়িয়ে দিয়ে দিলীপবাবু পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, "১৫ বছর পর হঠাৎ এই কথা মনে পড়ল? কত দাম চাই ওনাদের? আদৌ কি ওরা কোনও দাম পাওয়ার যোগ্য?"
অন্যদিকে মিড-ডে মিলে ডিম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে তিনি জানান, মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বা হাসপাতালে খাবারের খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার দেখবে। তবে তিনি যোগ করেন, হরিণঘাটা থেকে মিড-ডে মিলের জন্য সাড়ে তিন টাকায় ডিম দেওয়া হয়। রাজ্য সরকার যদি বিজেপির বা কেন্দ্রের কাছে এই বিষয়ে সাহায্য চায়, তবে তাঁরাও ভেবে দেখবেন।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আড়াই লক্ষ কোটি টাকার হিসেব না দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন ফিকি-কে কত কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা ঘুরেফিরে আগের সরকারের হাতেই গিয়েছিল। তাহলে এই টাকার হিসেব দেবে কে?" তিনি দাবি করেন, আগের মুখ্যমন্ত্রী সই করেছিলেন বলেই এটা ধরা পড়েছে, নতুবা এমন কত কত টাকার যে কোনও হিসেব নেই, তার ইয়ত্তা নেই।
বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে রাজ্য সরকারকে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও রাজ্যে কোনও বিনিয়োগ আসেনি। প্রতিবার একই লোক এসে মৌ স্বাক্ষর করে যেতেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হতো না। তাহলে কেন এই সম্মেলনের নামে এত টাকা ওড়ানো হলো?"
সব্যসাচী দত্তের বান্ধবীর খোঁজ না মেলার প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "অনেকেরই বান্ধবী এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসে এই ‘বান্ধবী কালচার’ বড্ড বেশি। পার্থ-অর্পিতার পর এবার আরও একটা ‘অপা’ জুটি বেরোলো।" মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তিনি বলেন, খোদ মুখ্যমন্ত্রীই তো এখন বলছেন তৃণমূল নেতারা নিজেরাই বলুক কে কত চুরি করেছে।