দুর্গাপুজোর আগে প্রতিমাশিল্পীদের কড়া নির্দেশ লালবাজারের, তৈরি করা যাবে না নির্দিষ্ট উচ্চতার বেশি প্রতিমা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ জুন ২০২৬
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। কুমোরটুলি থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এরই মাঝে প্রতিমাশিল্পীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনোভাবেই ১০-১১ ফুটের বেশি উচ্চতার প্রতিমা নির্মাণ করা যাবে না। নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রতিমা নির্মাণ করা হলে যেকোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
লালবাজরের তরফে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সার্কুলার রেল পরিষেবায় রেল লাইনের উপর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎবাহী তার বসানো রয়েছে। এই তারের উচ্চতা মাত্র ১৭.৬ ফুট। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য বাগবাজার ও গোয়ালিয়র ঘাটের মধ্যে অবস্থিত রেলওয়ে লেভেল ক্রসিংয়ে আড়াআড়িভাবে লোহার খুঁটি বসানো হয়েছে। এই লোহার খুঁটির উচ্চতা ১৭ ফুটেরও কম। সেক্ষেত্রে বিসর্জনের সময় রেল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই লোহার খুঁটিগুলি সরাবে না এবং রেলের ওভারহেড তারও খুলবে না। তার ফলে বিসর্জনের সময় প্রতিমার উচ্চতা বেশি হলে তা রেলের তার ও খুঁটিতে লেগে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে।
লালবাজারের এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাগবাজার ও গোয়ালিয়র ঘাটের মধ্যবর্তী যে কোনও ঘাটে যে সমস্ত বারোয়ারি পুজো উদ্যোক্তারা প্রতিমা বিসর্জন দিতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য ১০-১১ ফুটের বেশি উঁচু প্রতিমা তৈরি করা যাবে না। আবার, লরি বা ট্রাকের উপর যখন প্রতিমা বসানো হবে, তখন গাড়ি সমেত প্রতিমার মোট উচ্চতা ১৭ ফুটের উপর না যায়। তবে শুধু দুর্গাপুজোই নয়, কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোয়ও কোনও প্রতিমার উচ্চতা যেন ১০-১১ ফুটের বেশি না হয় তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি প্রতিমাশিল্পীর উদ্দেশে এই নির্দেশ কঠোরভাবে মানতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনও পুজো সংগঠক ও বারোয়ারি কমিটি জোর করলেও যাতে তাঁরা এই নির্দেশ অমান্য করে প্রতিমা তৈরি না করে সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজোর উদযাপনের মধ্যে কোনও বিষাদময় ঘটনা যাতে না ঘটে সেই উদ্দেশেই লালবাজারের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।