ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় মিলল পাঁচটি হিরে! বিশেষজ্ঞরা একে ভারতের জন্য এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন। কারণ এই অঞ্চলে বিশাল হিরের ভাণ্ডার খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে এই ঘটনা। উদ্ধার করা হিরেগুলো পরবর্তী মূল্যায়নের জন্য নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বহুদিন ধরেই ভারতকে আন্তর্জাতিক হিরে ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এখন দেখার, সেই লক্ষ্যে এই আবিষ্কার কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কিনা।
জানা গিয়েছে, বালোদা-বেলমুন্ডি ব্লকে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ২০০ টন খনিজ উপাদান প্রক্রিয়াজাত করে এই হিরেগুলি পাওয়া গিয়েছে। যাদের মোট ওজন ১.২২ ক্যারেট। যাদের মধ্যে দু’টিকে উন্নত মানের হিরে বলে ধরা হচ্ছে। এদের ওজন ০.১৯ ক্যারেট ও ০.০৬ ক্যারেট। বাকিগুলি অন্য শ্রেণির অন্তর্গত।
বলে রাখা ভালো, বালোদা-বেলমুন্ডি ব্লকটিতে নতুন খনিজ সম্পদ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে বছর কয়েক ধরেই চালানো হচ্ছিল অনুসন্ধান। অবশেষে সন্ধান মিলল হিরেগুলির। যা আশা জাগাচ্ছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম হিরে কাটা ও পালিশ করার কেন্দ্র হলেও অপরিশোধিত হিরে আমদানির উপরে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, মহাসমুন্দের মতো স্থানে খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ খনিজ সম্পদকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি রত্ন ও গয়না খাতের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতেও বিরাট সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। তাঁরা আরও বলেন, যদি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খনিজ উত্তোলন লাভজনক বলে প্রমাণিত হয়, তবে এই প্রকল্প ছত্তিশগড়ের জন্য বিপুল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং বাড়তি রাজস্ব আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সেই সঙ্গেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতগুলি হিরে উদ্ধার হয়েছে মানেই গোটা এলাকা বাণিজ্যিক ভাবে খননের ক্ষেত্রে খুব লাভজনক হবে, এমনটা নাও হতে পারে। আপাতত আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন। জানা যাচ্ছে, মহাসমুন্দের প্রতিবেশী জেলা গারিয়াঁবন্দের মাইনপুর এলাকাতেও হিরে পাওয়া যায়। তাই সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।