ইস্তফা দিলেন আইআরসিটিসির চেয়ারম্যান, কেটারিং চার্জ বৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রকের সঙ্গে মতান্তর?
বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মেয়াদ শেষের ছ’মাস আগে আচমকাই পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আইআরসিটিসির চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সিএমডি) সঞ্জয়কুমার জৈন। সোমবার রাতেই তিনি তাঁর পদত্যাগ পত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কালবিলম্ব না করে সঞ্জয়কুমার জৈনের ইস্তফা গৃহীতও হয়েছে। তবে ইস্তফা দিলেও ২০ জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ আগামী এক মাস সঞ্জয় কুমারকে আইআরসিটিসি সিএমডির দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং নিয়মমতো নতুন সিএমডিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আইআরসিটিসির চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে সঞ্জয়ের মেয়াদ ছিল। তার ঢের আগে এভাবে আচমকা ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে রেল বিশেষজ্ঞ মহলে। প্রশ্ন উঠছে, ট্রেনে কেটারিং চার্জ বৃদ্ধির ব্যাপারে রেল বোর্ডের সঙ্গে মনান্তর ও মত পার্থক্যের জেরেই কি আগেভাগে ইস্তফা দিলেন আইআরসিটিসির সিএমডি? অর্থাৎ, এই ইস্যুতে কি রেলমন্ত্রক এবং আইআরসিটিসি-এর মতান্তর চরমে উঠেছে?
এসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি রেলমন্ত্রক। আইআরসিটিসিও এব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে। যদিও সরকারি সূত্রে এবিষয়ে যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ সরকারি সূত্রেই দাবি করা হয়েছে, ইস্তফা পত্রে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়েছেন সঞ্জয়কুমার জৈন। যদিও তাতে চর্চা কোনোমতেই থামছে না।
জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরেই রেলমন্ত্রক ট্রেনের কেটারিং চার্জের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি করতে চাইছে। এক্ষেত্রে রাজধানী, শতাব্দী, দুরন্ত, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনগুলি যেমন আছে। তেমনই সাধারণ মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিও আছে। এসংক্রান্ত বিভিন্ন বৈঠকে রেলমন্ত্রক যুক্তি দিয়েছে, ছ’বছর আগে শেষবার কেটারিং চার্জে সংশোধন করা হয়েছে। ২০২০ সালের ২৯ মার্চ তা কার্যকর হয়েছে। তার আগে ২০১৩ সালে রাজধানী, শতাব্দী, দুরন্ত এবং ২০১২ সালে সাধারণ মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনে কেটারিং চার্জ পরিবর্তিত হয়েছিল। ২০২০ সালে অবশ্য একযোগে সমস্ত ট্রেনেই তা কার্যকর হয়। সরকারি সূত্রের দাবি, রেলমন্ত্রক বিভিন্ন সময় যুক্তি দেখিয়েছে, সাধারণত ছয় থেকে সাত বছর পর কেটারিং চার্জে সংশোধন আনাই দস্তুর। ২০২০ সালের পর ২০২৬ কিংবা ২০২৭ সালে তা হওয়া জরুরি। তা মানতে চাননি আইআরসিটিসির সিএমডি। ফলে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এমনই দাবি সরকারি সূত্রে।