• রামমন্দিরের দান চুরি: প্রাথমিক রিপোর্ট সিটের
    বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৬
  • লখনউ: অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের টাকা ও অলঙ্কার চুরির অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। তারই মধ্যেই মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট পেশ করল সিট। সরকারি সূত্রে খবর, লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টটি পেশ করেছেন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (স্বরাষ্ট্র) সঞ্জয় প্রসাদের কাছে। রিপোর্টে কী আছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্যে রাজি হননি পন্থ। তবে একটি সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ইস্যুতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য এফআইআর দায়ের করার সুপারিশ করা হয়েছে। রামমন্দির ট্রাস্টের পুনর্গঠন এবং প্রবীণ কোনো অফিসারকে মন্দিরের সিইও পদে নিয়োগ ও গত পাঁচ বছরে মন্দিরে জমা পড়া দান নিয়ে অডিটের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ১৫০ পাতার প্রাথমিক রিপোর্টে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের সাধারণ সম্পাদক তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহ সভপতি চম্পত রাইয়ের নামের উল্লেখ রয়েছে। ট্রাস্টের সুনির্দিষ্ট কয়েকজন পদাধিকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে এবিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ সরকারি আধিকারিকরা।

    রামমন্দিরের দানসামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ট্রাস্টের অনুরোধে তদন্তের জন্য গত ১৩ জুন সিট গঠন করেছিল উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার। লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ এদিন বলেন, আমাদের হাতে যেসব তথ্য এসেছে তার ভিত্তিতে আজ প্রথম রিপোর্টটি পেশ করেছি। এটা প্রাথমিক রিপোর্ট মাত্র। পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতে কিছুদিন পর চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে। সিটের তরফে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা সম্ভব হয়। প্রথামিক রিপোর্টটি গোপনীয়। সংবাদ মাধ্যমকে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য জানানোর এক্তিয়ার আমাদের নেই। প্রয়োজন মতো তদন্তের কাজে আমরা ফের অযোধ্যায় যাব।

    পন্থ প্রকাশ্যে কিছু জানাতে না চাইলেও সূত্রের খবর, এসআইটি তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশ যাদব, রাজেশ পাঠক, রাম শংকর, অবিনাশ শুক্লা, কৃষ্ণদেব তিওয়ারি, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং ট্রাস্ট ও ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত সহ মোট ১৫০ জনের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দিয়েছে। তদন্ত চলাকালীন রেকর্ড করা বেশ কয়েকটি জবানবন্দি ট্রাস্টের কাছে থাকা নথিপত্রের সঙ্গে মিলছে না বলেও খবর। এমন পরিস্থিতিতে এসআইটি তার তদন্তের পরিধি বাড়াতে পারে। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার শীঘ্রই প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে জমা দেবে। ট্রাস্টের কোনো সদস্যকে অপসারণ করা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
  • Link to this news (বর্তমান)