• সিকিমের রাস্তায় ভয়াবহ ধস, উত্তরে চার জেলায় ৫৫টি জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ
    বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি: ফের সিকিমের রাস্তায় ভয়াবহ ধস। মঙ্গলবার সকালে পাহাড় থেকে পাথর ও মাটি আছড়ে পড়ে বন্ধ হয়ে যায় রংপো-রোরাথাং রোড। বরাতজোরে বেঁচে যান এক পুলিশকর্মী। ধসের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক পুলিশকর্মী বাইক নিয়ে ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছেন। আচমকা তাঁর সামনে পাহাড় থেকে আছড়ে পড়ে পাথর ও মাটি। এর জেরে পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে যায় রাস্তা। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। সিকিম প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাস্তা থেকে ধস সরাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়। পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি চলায় পর্যটকদের ধসপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার বার্তা দেওয়া হয়েছে। 

    এদিকে, একরাতে ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক স্থান। যার মধ্যে মালবাজার, ধূপগুড়ি, মেটেলি, মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জ, কালচিনি, কুমারগ্রাম ও গোরুবাথান। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৬৫ থেকে ৯৭.৪৯ মিলিমিটার। এর জেরে ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, বানারহাট, মেটেলি, খড়িবাড়ি, মাথাভাঙা-১, তুফানগঞ্জ-১ ও কোচবিহার-২ ব্লকে ১২টি জায়গায় নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও রেনকাট, আবার কোথাও ধস নেমেছে। আবার কোথাও শুরু হয়েছে ভাঙন। এনিয়ে কয়েকদিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে চার জেলায় ৫৫টি জায়গায় নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এরমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গার নদীবাঁধ ও ভাঙন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। মঙ্গলবার এনিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস। বৈঠকে সেচদপ্তরের উত্তরপূর্বের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক সহ অন্য আধিকারিকরা যোগ দেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দপ্তরের অধিকারিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সেচদপ্তর সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংখ্যা জলপাইগুড়ি জেলায় সর্বাধিক ২১টি। এরবাইরে শিলিগুড়িতে ১৭টি, কোচবিহারে ১০টি এবং আলিপুরদুয়ারে ৭টি জায়গায় নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেচদপ্তরের উত্তরপূর্বের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, কন্ট্রোলরুম থেকে দিনরাত বৃষ্টিপাতের উপর নজর রাখা হয়েছে। ক্যুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। নদীবাঁধে ফাটল কিংবা ভাঙন দেখামাত্রই মেরামতে ঝাঁপানো হচ্ছে।

    পাহাড় ও সমতলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তা, মহানন্দা, জলঢাকা সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদী ফুঁসছে। সিকিম ও ভুটান পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টিতে উত্তরে বিশেষ করে ডুয়ার্সে বিপদের আশঙ্কা বেড়েছে। সেচদপ্তরের কন্ট্রোল রুম সূত্রে খবর, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় এদিন সকালে লাল সতর্কতা জারি করা হয়। সংরক্ষিত এলাকায় জারি হয় হলুদ সতর্কতা। জলঢাকা নদীতেও অসংরক্ষিত এলাকায় লাল ও সংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। ফুলবাড়ির মহানন্দা ব্যারেজ, গজলডোবায় তিস্তা ও কালিঝোরা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)