• ডিউটি না করেই ‘উধাও’ রোগী সহায়ক! কড়া ব্যবস্থা না নিতে ফোন বিজেপির ‘দাবাং’ নেতাদের
    বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিফটিং ডিউটি রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা। অথচ বিশ্ব যোগ দিবসের দিন সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ইমার্জেন্সিতে সারপ্রাইজ ভিজিট দিতে গিয়ে হাসপাতালের কর্তারা হতবাক। কোথায় রোগী সহায়ক! ভোঁ ভা! ইমার্জেন্সির সামনে অ্যাডমিশন কাউন্টারে গিজগিজ করছে ভিড়। কিন্তু, টিকিট করার কেউ নেই। রোগীর পরিবারকে সাহায্য করার মতোও কেউ নেই। ততক্ষণে ক্ষোভ ছড়িয়েছে হাসপাতালে। শুরু হয়েছে অশান্তি। কোথায় গেলেন ইমার্জেন্সি টিকিট করার দায়িত্বপ্রাপ্ত রোগী সহায়ক? খোঁজখবর নিয়ে হাসপাতালের কর্তারা জানতে পারেন, কাউকে কিছু না জানিয়ে ওই অস্থায়ী কর্মী রাত ২ টোর সময় চলে গিয়েছেন। তাহলে রাত ২টো থেকে তাঁর ডিউটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যত রোগী এসেছিলেন, তাঁদের হয়রান হতে হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরপর দু’দিন হয়েছে শুনানি। অভিযোগ, সেই খবর জানাজানি হতেই বিজেপির একাধিক ‘দাবাং’ নেতা হাসপাতালের কর্তাদের ফোন করে ওই রোগী সহায়কের ব্যাপারে ‘নরম’ হওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের ম঩ধ্যে বিজেপির স্বাস্থ্যক্ষেত্রের এক ‘স্বঘোষিত’ নেতাও আছেন। প্রতিক্রিয়া জানতে ন্যাশনালের উপাধ্যক্ষ এবং কার্যনিবাহী অধ্য‌ক্ষ ডাঃ অর্ঘ্য মৈত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেব। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, নিশ্চিতভাবে খোঁজ নেব এ বিষয়ে।

    এদিকে, অভিযুক্ত কর্মী তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়ে দাবি করেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাধ্য হয়ে তিনি রাত ২টোয় হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কর্তব্যে গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে। এদিকে, দাবি মতো ওই কর্মী আদৌ ওই রাতে অসুস্থ ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে মেডিকেল বোর্ডের সামনে হাজির হতে হবে। 

    ঘটনাটি রবিবারের। সকাল সকাল যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হাসপাতালে হাজির হন বড়ো, ছোটো, মেজো কর্তা সহ বহু কর্মী। এই অবসরে হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু করেন কর্তারা। ইমার্জেন্সিতে গিয়ে তাঁরা দেখেন ওই অবস্থা। এখানকার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালে অনুমোদন না নিয়েই লম্বা ছুটিতে চলে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সেবারও ব্যবস্থা নিতে গেলে ‘ও আমাদের ছেলে, ছেড়ে দিন, কিছু বলবেন না’ বলে হাসপাতাল কর্তাদের উপর উলটে হম্বিতম্বি করেছিলেন, বুঝে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূল সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রী। এখন সরকার বদলেছে। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলছেন, এই সরকারে শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। ন্যাশনালে কী হয়, এখন সেটাই দেখার। 
  • Link to this news (বর্তমান)